মাওলানা মওদুদী ও তার জামাত ইসলামের গোমরাহি ও আমাদের দেশের জামাত ইসলাম

লিখেছেন লিখেছেন গোলাম মাওলা ০৬ অক্টোবর, ২০১৩, ১২:১৩:১২ রাত



মাওলানা মওদুদী ও তার জামাত ইসলামের গোমরাহি



আমাদের দেশের জামাত ইসলাম

এই লিখা শেয়ার না করে পারলাম না।( ফেসবুক হতে সংগ্রহীত)

(কৈফিয়ত: আমি জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরের ভাইদের কোনরুপ হেয় বা খাটো করার উদ্দেশে মাওলানা মওদুদীর উক্তিগুলো এখানে তুলে ধরিনি। আমি জানি, তারা এগুলো সম্পর্কে কমই জানেন অথবা তাদের

জানতে দেওয়া হয়না। কেউ যদি জেনেও ফেলেন এবং বড়দের নিকট প্রকাশ করেন, তাদের এমন বোঝান হয়

যে এগুলো সব শত্রুদের ষড়যন্ত্র। আবার এমনটিও বলা হয়- আমরা তো আর মাওলানা মওদুদীকে অনুসরন

করিনা বা তার সব কথা মানিও না।কিন্তু একথা গ্রহনযোগ্য নয়, কারন জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের

পাঠ্যসূচিতে মাওলানা মওদুদী লিখিত প্রায় সব পুস্তকই রয়েছে। উত্তম খাবারের সাথে যেমন সুক্ষ পরিমাণ বিষাক্ত খাবার গ্রহন করলে বাহ্যিকভাবে তার প্রভাব তেমন অনুভূত হয়না এবং ধীরে ধীরে ঐ বিষাক্ত খাবার সহনীয় হয়ে যায় তেমনি মাওলানা মওদুদীর ত্রুটিযুক্ত কথা ও কাজগুলোকেও জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরের

ভাইয়েরা একসময় তাদের আক্বীদায় পরিনত করেন। ‘তাফহীমুল কোরআন’কে আলেম সমাজ নিষিদ্ধের

দাবী করায় বর্তমান সংস্করনগুলো থেকে কিছু আপত্তিকর কথা বাদ দেওয়া হয়েছে যদিও এতটুকুই

যথেষ্ট নয়। তাছাড়া মাওলানা মওদুদী জীবিত থাকাকালীন বা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে অদ্যাবধি কোন ভুল স্বীকার করে তওবা করা হয়নি। তাই মুসলিম ভাইদের ঈমানের হেফাজতের জন্য এগুলো তুলে ধরা আমার জন্য অপরিহার্য ছিল।)

কুরআন শরীফের অনেক আয়াত শরীফে আল্লাহ পাক প্রথমে ঈমান আনার কথা এবং পরে আমলের কথা বলেছেন। ইসলাম বিদ্বেষী কাফির-মুশরিকরা তাই মুসলমানদের ঈমানী চেতনায় বিভেদ তৈরীর জন্য সদা সক্রিয়। আল্লাহ পাক কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ করেনঃ

“তারা পূর্ব থেকেই বিভেদ সৃষ্টির সুযোগ সন্ধানে ছিল এবং আপনার কার্যসমূহ উলট-পালট করে দিচ্ছিল।”

(সূরা তওবা ৪৮)

এক্ষেত্রে ইসলাম বিদ্বেষী কাফির- মুশরিকরা মূলতঃ মুসলমানদের থেকেই এজেন্ট তৈরী করে। যারা মুসলমানদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে ইসলামী আন্দলনের মধ্যে ফিৎনা তৈরী করে। সাইয়্যিদুল

মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শান ও

মানের খেলাফসহ অসংখ্য কুফরী আক্বীদার বিস্তার করেছে সে। এরপর পাক ভারত উপামহাদেশের এ

ধারার অগ্রগামী হয়েছে তথাকথিত জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা মওদুদী। স্বয়ং আল্লাহ পাক, তাঁর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাহাবা কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এবং আউলিয়া কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম, মোদ্দাকথা ইসলামের সব অনুষঙ্গেই মিথ্যা, কুফরী ও জঘন্য সমালোচলার জালবিস্তার করেছে এই মওদুদী।

তার সেই অসংখ্য কুফরী আক্বীদার মাত্র ৫টি ক্ষুদ্র প্রমাণ নিম্নরূপঃ

১) আল্লাহ পাক সম্পর্কে কুফরী আক্বীদাঃ “যে ক্ষেত্রে নারীর অবাধ মেলামেশা, সেক্ষেত্রে যেনার কারণে (আল্লাহ

পাকের আদেশকৃত) রজম শাস্তি প্রয়োগ করা নিঃসন্দেহে জুলুম।” (নাঊযুবিল্লাহ)

(তাফহীমাত, ২য় খন্ড, ২৮১ পৃষ্ঠা)

২)ফেরেশতা সম্পর্কে কুফরী আক্বীদাঃ “ফেরেশতা ঐ জিনিস যাকে গ্রীক, ভারত ইত্যাদি দেশের মুশরিকরা দেবী- দেবতা স্থির করেছে।” (নাঊযুবিল্লাহ) (তাজদীদ ও ইহইয়ায়ে দ্বীন, ১০ পৃষ্ঠা)

৩) আম্বিয়া আলাইহিমুছ ছালাত ওয়াস সালাম সম্পর্কে কুফরী আক্বীদাঃ “নবীগণ মা’ছূম নন। প্রত্যক নবী গুনাহ করেছেন।” (নাঊযুবিল্লাহ) (তাফহীমাত, ২য় খন্ড, ৪৩ পৃষ্ঠা)

৪) হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে কুফরী আক্বীদাঃ “মহানবী ছল্ল আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানবিক দুর্বলতা থেকে মুক্ত ছিলেন না।”(নাঊযুবিল্লাহ) (তরজমানুস্ সুন্নাহ, ৩য় খন্ড, ৩০৫ পৃষ্ঠা)

৫) সাহাবা কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম সম্পর্কে কুফরী আক্বীদাঃ “সাহাবাদিগ মাপকাঠি জানবে না।” (নাঊযুবিল্লাহ) (দস্তরে জামাতে ইসলামী, ৭ পৃষ্ঠা)

উল্লেখ্য, সব মুফতী-মাওলানাদেরইজমা তথা ঐক্যমতে উপরোক্ত আক্বীদাধারী ব্যক্তি মুসলমান নয় বরং মুরতাদ। আরো উল্লেখ্য যে, মওদুদী’র মৃত্যুর পর শিয়া সম্প্রদায়ের একটি মুখপত্রে বলা হয়েছিল, “মরহুম

(মওদুদী) তার ভিন্ন আঙ্গিকে শিয়া মতবাদ প্রচলনেও সহায়তা করেছেন।”

(সাপ্তাহিক শিয়া, লাহোর, ১৯৭৯ ইং, ৫৭ সংখ্যা ৪০/৪১; খোমেনী ও মওদুদী দু’ভাই, পৃষ্ঠা ১২)

বিষাক্ত বীজ থেকে যেমন সুমিষ্ঠ ফল আশা করা যায় না তেমনি ইসলামী আন্দোলন ইত্যাদি মিষ্টি মিষ্টি কথা বললেও মওদুদী নিজেই যে কত বিষাক্ত বীজ ছিলো তা তার উপরোক্ত কুফরী আক্বীদা থেকেই সুস্পষ্টভাবে বুঝা যায়। তার উপরোক্ত আক্বীদাগুলো মুসলমানদের সাথে তার বিশ্বাসঘাতকতার স্বরূপই উন্মোচন করে।

আর আল্লাহ পাক বিশ্বাসঘাতকদের সম্পর্কে পবিত্র কালামে ইরশাদ ফরমান,

“আল্লাহ পাক পছন্দ করেন না তাকে,যে বিশ্বাসঘাতক পাপী হয়।” (সূরা আন্ নিসা ১০৮)

@@জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মওদুদী যে কারন সমাজের নিকট প্রত্যাখ্যাত হলেন নবী-রাসুলগণের প্রতি ধৃষ্টতাপূর্ণ উক্তি :

নবী-রাসুলগণ সকলেই মাসুম, তারা সকলেই নিষ্পাপ-এই হলো ইসলামী আকীদা। তবে জনাব আবুল আলা মওদুদী ইসলামের বদ্ধমূল এ আকীদার উপর কুঠারাঘাত করে এবং কুরআন ও সুন্নাহর চিরন্তন শিক্ষাকে পদদলিত করে আম্বিয়ায়ে কেরামের এ পূত পবিত্র জামাতের প্রতি কলংক লেপন করার উদ্দেশ্যে এমন ধৃষ্টতাপূর্ন কথা বলেছেন, যা কোন মুসলমানের পক্ষে বরদাশত করা সম্ভব নয়।

>>প্রসিদ্ধ নবী দাউদ (আ.) সম্পর্কে: “হযরত দাউদ (আ.) এর কাজের মধ্যে নফস ও আভ্যন্তরীন কুপ্রবৃত্তির কিছুটা দখল ছিল।

>>অনুরুপভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের সাথেও তার কিছুটা সম্পর্ক ছিল। আর তা ছিল এমন ধরনের কাজ, যা হক পন্থায় শাসনকারী কোন মানুষের পক্ষেই শোভা পায়না।” [তাফহিমুল কোরআন (উর্দু):৪র্থ খন্ড, সুরা সাদ, ৩২৭পৃ. ১ম সংস্করণ, অক্টোবর ১৯৬৬ইং]

>>“হযরত দাউদ (আ.)ত-কালীন যুগে ইসরাঈলী সোসাইটির দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে এক বিবাহিতা যুবতীর উপর আসক্ত হয়ে তাকে বিবাহ করার জন্য তার স্বামীর নিকট তালাক দেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন” [তাফহিমাত ২য় খন্ড: ৪২পৃ. ২য় সংস্করণ ; নির্বাচিত রচনাবলী(বাংলা) ২য় খন্ড, ৭৩ পৃ, আধুনিক প্রকাশনী, ১ম প্রকাশ ১৯৯১ইং]

>>হযরত নূহ (আ.) সম্পর্কে: “হযরত নূহ (আ.) চিন্তাধারার দিক থেকে দ্বীনের চাহিদা হতে দূরে সরে গিয়েছিলেন।তার মধ্যে জাহিলিয়াতের জযবা স্থান পেয়েছিল।” [তাফহিমুল কোরআন: ২য়খন্ড, ৩৪৪পৃ. ৩য় সংস্করণ, ১৯৬৪ ইং]

>>হযরত মুছা (আ.) সম্পর্কে:“নবী হওয়ার পূর্বে মুছা(আ.) দ্বারা একটি বড় গুনাহ হয়েছিল।তিনি এক ব্যাক্তিকে কতল করেছিলেন।” [রাসায়েল ও মাসায়েল, ১ম খন্ড, ৩১ পৃ.]

>>“মুছা(আ.) এর দৃষ্টান্ত হচ্ছে ঐ অধৈর্য্যশীল বিজয়ীর মত যে তার শাসন ক্ষমতা সুপ্রতিষ্ঠিত না করেই মার্চ করে সম্মুখে চলে যায় আর পিছনে ফেলে যাওয়া এলাকায় বিদ্রোহের দাবানল দাউ দাউ করে ছড়িয়ে পড়ে।” [তরজমানুল কোরআন ২৯/৪-৫]

>>হযরত ইব্রাহীম (আ.) সম্পর্কে: “এখানে আর একটি প্রশ্নের উদ্রেক হয় যে, হযরত ইব্রাহীম (আ.) যখন নক্ষত্র দেখে বলেছিলেন, এটা আমার প্রতিপালক এবং চন্দ্র-সূর্য দেখে এগুলোকেও নিজের প্রতিপালক

হিসাবে অবহিত করেন, তখন সাময়িক ভাবে হলেও কি তিনি শিরকে নিপতিত হননি?” [তাফহিমুল কোরআন ১মখন্ড, ৫৫৮ পৃ.]

>>হযরত ইসা (আ.) সম্পর্কে: “হযরত ইসা (আ.) মারা গেছেন একথাও

বলা যাবেনা, বরং বুঝতে হবে ব্যাপারটি অস্পষ্ট।” [তাফহ কোরআন ১মখন্ড(সুরা নিসা), ৪২১ পৃ.]

>>হযরত ইউসুফ (আ.) সম্পর্কে: “হযরত ইউসুফ (আ.)- ‘আমাকে মিসরের রাজকোষের পরিচালক নিয়োগ করুন’- এ কথাটি বলে শুধু অর্থমন্ত্রী হওয়ার জন্যই প্রার্থনা করেননি। কারো কারো ধারনা, বরং তিনি এ বলে ডিকটিটরীই চেয়েছিলেন মৌলিকভাবে। এরই ফলশ্রুতিতে বর্তমান ইতালীর মুসোলিনির যে মর্যাদা তিনিও এর কাছাকাছি মর্যাদার অধিকারী হয়েছিলেন।” [তাফহীমাত : ২য় খন্ড, ১২২ পৃ. ৫ম সংস্করন এবং নির্বাচিত রচনাবলী(বাংলা) ২য় খন্ড, ১৫১ পৃ, আধুনিক প্রকাশনী, ১ম সংস্করন ১৯৯১ইং]

>>হযরত ইউনুস (আ.) সম্পর্কে: “হযরত ইউনুস (আ.) থেকে রিসালাতের দায়িত্ব আদায় করার ব্যাপারে কিছু দুর্বলতা হয়ে গিয়েছিল।সম্ভবত তিনি ধৈর্যহারা হয়ে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই আপন স্থান ত্যাগ করে চলে গিয়েছিলেন।” [তাফহিমুল কোরআন: ২য়খন্ড, সূরা ইউনুস (টিকা দ্রষ্টব্য) ৩য় সংস্করণ, ১৯৬৪ ইং]

>>হযরহ আদম (আ.) সম্পর্কে: “হযরহ আদম (আ.) মানবিক দূর্বলতায় আক্রান্ত ছিলেন। তিনি শয়তানী প্রলোভন হতে সৃষ্ট তরি- জযবায় আত্মভোলা হয়ে নিজ নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলেন। ফলে আনুগত্যের উচ্চ শিখর হতে নাফারমানীর অতল গহ্বরে গিয়ে পড়েন।” [তাফহিমুল কোরআন (উর্দু): ৩য়খন্ড, ১২৩ পৃ.]

>>হযরত মুহাম্মাদ (স.) সম্পর্কে: “আল্লাহ তা’য়ালার নিকট কাতর কন্ঠে এই আবেদন করুন, যে কাজের দায়িত্ব আপনাকে দেওয়া হয়েছিল, তা সম্পন্ন করার ব্যাপারে আপনার দ্বারা যে ভুল ত্রুটি হয়েছে কিম্বা তাতে যে অসম্পূর্ণত তিনি ক্ষমা করে দেন।” [তাফহিমুল কোরআন (বাংলা) ১৯শ খন্ড, ২৮০পৃ. মুদ্রনে ওরিয়েন্টাল প্রেস, ঢাকা ১৯৮০ ইং; কোরআনের চারটি মৌলিক পরিভাষা(বাংলা) ১১২পৃ. ৮ম প্রকাশ, আধুনিক প্রকাশনী:জুন ২০০২]

@@“মহানবী (স.) মানবিক দূর্বলতা থেকে মুক্ত ছিলেন না। অর্থাৎ তিনি মানবিক দূর্বলতার বশীভূত হয়ে গুনাহ করেছিলেন।” [তরজমানুল কোরআন ৮৫ তম সংখ্যা, ২৩০পৃ.]

@@“মহানবী (স.) নিজে মনগড়া কথা বলেছেন এবং নিজের কথায় নিজেই সন্দেহ পোষন করেছেন।” [তরজমানুল কোরআন, রবিউলআউয়াল সংখ্যা, ১৩৬৫ হিজরী]

>>নবী-রাসুলগণ সকলেই মাসুম, তারা সকলেই নিষ্পাপ-এই হলো ইসলামী আকীদা। তবে জনাব আবুল আলা মওদুদী ইসলামের বদ্ধমূল এ আকীদার উপর কুঠারাঘাত করে এবং কুরআন ও সুন্নাহর চিরন্তন

শিক্ষাকে পদদলিত করে আম্বিয়ায়ে কেরামের এ পূত পবিত্র জামাতের প্রতি কলংক লেপন করার উদ্দেশ্যে এমন ধৃষ্টতাপূর্ন কথা বলেছেন, যা কোন মুসলমানের পক্ষে বরদাশত করা সম্ভব নয়।

>> সকল নবী-রাসুল সম্পর্কে: “ইসমত বা নিষ্পাপ হওয়াটা মুলত: নবীদের প্রকৃতিগত গুণ নয়।এখানে একটি সুক্ষ বিষয় এই যে, আল্লাহ তা’য়ালা ইচ্ছা করেই প্রত্যেক নবীর উপর থেকে কোন না কোন সময় তার হেফাজত উঠিয়ে নেন এবং তাদেরকে দু’একটি গুনাহে লিপ্ত হতে দেন। যাতে করে মানুষ যেন খোদা বলে ধারনা না করে এবং জেনে মানুষ।” [তাফহীমাত : ২য় খন্ড, ৪র্থ সংস্করন ৫৬/৫৭ পৃ. এবং নির্বাচিত রচনাবলী(বাংলা) ২য় খন্ড, ৭৪ পৃ, আধুনিক প্রকাশনী, ১ম সংস্করন অক্টোবর ১৯৯১ইং]

@@“বস্তুত: নবীগণ মানুষ হয়ে থাকেন এবং কোন মানুষই মু’মিনের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ মাপকাঠিতে সর্বদা অটল থাকতে সক্ষম হতে পারেনা। প্রায়শ:ই মানভীয় নাজুক মুহুর্তে নবীর ন্যায় শ্রেষ্ঠ মানুষও কিছুক্ষনের জন্য মানবিক দুর্বলতার সামনে পরাভূত হয়ে যান।” [তাফহিমুল কোরআন ২য় খন্ড, ৩৪৩-৩৪৪ পৃ. সংস্করন

১৯৯০ইং]

@@“কোন কোন নবী দ্বীনের চাহিদার উপর স্থির থাকতে পারেন নি। বরং তারা আপন মানবীয় দুর্বলতার

কাছে হার মেনেছেন।” [তরজমানুল কোরআন, ৩৫ তম সংখ্যা : ৩২৭ পৃ.]

@@” অন্যদের কথা তো স্বতন্ত্র, প্রায়শ:ই পয়গম্বরগণও তাদের কু-প্রবৃত্তির মারাত্মক আক্রমনের সম্মুখিন

হয়েছেন।” [তাফহীমাত : ২য় খন্ড, ৫ম সংস্করন ১৯৫ পৃ. এবং নির্বাচিত রচনাবলী(বাংলা) ২য় খন্ড, ২৮ পৃ, আধুনিক প্রকাশনী, ১ম সংস্করন ১৯৯১ইং]

#আসুন নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে কিছু কথা জেনে নেই

১। মওদুদী সাহেব বলেছেন: “প্রত্যেক নবী গুনাহ করেছেন” (তাফহীমাত: ২য় খন্ড, পৃ:৪৩)

২। হযরত মুহাম্মদ (সা.) রিসালাতের দায়িত্ব পালনে ত্রুটি করেছেন, তাকে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।

(তাফহীমুল কুরআন, সুরায়ে নসর এর তাফসীর)

৩। সাহাবায়ে কেরাম সত্যের মাপকাঠি নন এমনকি অনুকরণ-অনুসরণের যোগ্যও নন। (দস্তুরে জামাতে ইসলামী, পৃ, ০৭)

৪। হযরত আবু বকর (রা.) খিলাফতের দায়িত্ব পালনে সম্পুর্ণ অযোগ্য ছিলেন। (তাজদীদ ও ইয়াহইয়ায়ে দীন: ২২,)

৫। হযরত আলী (রা.) অন্যায় কাজ করেছেন (খেলাফত ও মুলুকিয়াত: ১৪৩)

*হযরত হোসাইন আহমদ মাদানী রহ. বলেছেন মওদুদী জামাত পথভ্রষ্ট; তাদের আক্বীদা আহলে সুন্নাত ওয়াল

জামাতের পরিপন্থী।

##এই বইগুলো দেখুন-

১. ইতিহাসের কাঠগড়ায় হযরত মুয়াবিয়া (রাঃ) -জাস্টিসতাকী উসমানী (রশীদ কল্যান ট্রাস্ট)

২. মাওলানা মওদূদীর সাথে আমার সাহচার্যের ইতিবৃত্ত – মাওলানা মনজুরনোমানী (রহঃ) (ঐ)

৩. মওদূদী সাহেব ও ইসলাম -মুফতি রশীদ আহমাদ লুধীয়ানভী (রঃ) (দারুল উলুম লাইব্রেরী-৩৭,নর্থব্রুক হল রোড,বাংলাবাজার)

৪. মওদূদীর চিন্তাধারা ও মওদূদী মতবাদ - ইজহারে হক ফাউন্ডেশান; প্রাপ্তিস্থানঃ (দারুল উলুম

লাইব্রেরী-৩৭,নর্থব্রুক হল রোড,বাংলাবাজার)

৫. ফিতনায়ে মওদুদীয়াত –মাওলানা যাকারিয়া (রহ.)

৬. ভুল সংশোধন -মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহ.)

৭. সতর্কবাণী - মাওলানা মোহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর (রহ.)

৮. হক্ব বাতিলের চিরন্তন দ্বন্দ্ব- আল্লামা আহমাদ শফী, হাটহাজারী।

৯. ঈমান ও আক্বীদা -ইসলামিক রিসার্স সেন্টার, বসুন্ধরা।

১০. ফতোয়ায়ে দারুল উলূম (আংশিক)

১১. ইসলামি আকীদা ও ভ্রান্ত মতবাদ - মাওলানা মুহাম্মাদ হেমায়েত উদ্দীন (১১/১, বাংলাবাজার, ঢাকা)

১২. আহসানুল ফতোয়া

@@@যাদের সত্য যাচাইয়ের প্রয়োজন তারা ইচ্ছে করলেই তা করতে পারেন।

##লক্ষ্য করুন এবং বিবেচনা করুন :—-

১। মুজাদ্দিদ ও ইমাম মাহদী হওয়ার দাবি মিস্টার মওদুদীর মিস্টার মওদুদীর বক্তব্য শুনে নদভী সাহেব

মিস্টার মওদুদীকে সম্বোধন করে পুনঃ লিখলেন,

‘আপনি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে যে জাওয়াব দিয়েছেন, তাতে একথা পরিষ্কার হয়ে উঠে যে, আপনি মুজাদ্দিদে কামিল

বা ইমাম মাহদী হওয়ার দাবিকে অস্বীকার করেন না।’ (ইজাহে ফতওয়া, ৮৪ পৃষ্ঠা)

মিস্টার মওদুদীর অভিপ্রায় ছিলো, দুর্ভাগ্যবশত মুজাদ্দিদরূপে নিজেকে জাহির করার সুযোগ না পেলেও পরবর্তীকালে তার রেখে যাওয়া জামাতে ইসলামীর পালিত শিষ্যগণ তার মুজাদ্দিদরূপে জাহির হওয়ার

স্বপ্নটা বাস্তবায়ন করবেন। তাই তো দেখতে পেলাম, মিস্টার মওদুদীর ইন্তেকালের পরপরই জামাতের গোপন নেতা মাও. দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী এক সভায় মিস্টার মওদুদীকে মুজাদ্দিদ বলে ঘোষণা দিয়ে ফেললেন। তার বক্তৃতার ক্যাসেট এখনও আমাদের নিকট বিদ্যমান। মিস্টার মওদুদী শুধু মুজাদ্দিদ ও ইমাম মাহদী হিসেবে জাহির হওয়ার স্বপ্নই দেখেনি, বরং একজন খোদমোখতার বা স্বয়ংসম্পন্ন মুজতাহিদ হওয়ারও আকাঙ্খা করেছিলো। এদিকেই ইঙ্গিতদিয়ে সে বললো,

‘পূর্ববর্তী মুজতাহিদগণের কার্যবলীতে যে এজতেহাদী শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়, বর্তমান যুগে সে শক্তি যথেষ্ট নয়। বরং বর্তমানে তাজদীদী খেদমত আঞ্জাম দেয়ার জন্য এক নতুন এজতেহাদী শক্তির প্রয়োজন। তাই বর্তমান পরিসি’তিতে এমন এক স্বয়ংসম্পন্ন মুজতাহেদের প্রয়োজন, যিনি পূর্ববর্তী মুজতাহিদগণের ইলম ও পথের অনুসারী হবেন না। যদিওফায়দা অন্বেষণ তিনি প্রত্যেকের থেকেই করবেন। (তাজদীদ ও ইহইয়ায়ে দ্বীন)

২। ইসলামী চাল-চলন সম্পর্কে মিস্টার

মওদুদীর বক্তব্যইসলাম ধর্ম বলে, ইসলামী পোশাক- পরিচ্ছদ-প্রকৃতি চাল-চলন ইত্যাদি গ্রহণ করবে। এসব ব্যাপারে বিধর্মীদের অনুকরণ করবে না। (এমদাদুল মুফতিয়ীন, ২য় খণ্ড, ১৫৪পৃষ্ঠা)

মিস্টার মওদুদী বলে, পোশাক পরিচ্ছদ, চাল-চলন, আকৃতি-প্রকৃতি চুল কার্টিং ইত্যাদির ব্যাপারে বিধর্মীদের অনুকরণ করাতে দোষ নেই। (নাঊযুবিল্লাহ) (তরজুমানুল কুরআন, ছফর সংখ্যা, ১৩৬৯

হিজরী)

৩। দাড়ি রাখা সম্পর্কে মিস্টার মওদুদীর বক্তব্যঃ দাড়ি কাটা ছাঁটা জায়িয। কেটে ছেঁটে এক মুষ্টির কম হলেও ক্ষতি নেই। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে পরিমাণ দাড়ি রেখেছেন সে পরিমাণ দাড়ি রাখাকে সুন্নত বলা এবং এর অনুসরণে জোর দেয়া আমারমতে মারাত্মক অন্যায়। (নাউযুবিল্লাহ) (রাছায়েল মাছায়েল, ১ম খণ্ড, ২৪৭ পৃষ্ঠা)

@@ইসলাম ধর্ম বলে, এক মুষ্টি পরিমাণ দাড়ি রাখা ওয়াজিব। কেটে ছেঁটে এর কম করা হারাম। (বুখারী শরীফ, ৭৫ পৃষ্ঠা,মুসলিম শরীফ, ১২৯ পৃষ্ঠা, আবু দাউদ শরীফ ২২১ পৃষ্ঠা)

৪। সুন্নত সম্পর্কে মিস্টার মওদুদীর বক্তব্যঃ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদত,

আখলাককে সুন্নত বলা এবং তা অনুসরণে জোর দেয়া আমার মতে সাংঘাতিক ধরনের বিদয়াত ও মারাত্মক ধর্ম বিগড়ন। (নাউযুবিল্লাহ) (রাছায়েল মাছায়েল,২৪৮ পৃষ্ঠা)

@@ইসলাম ধর্ম বলে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদত, আখলাক ও স্বভাব-চরিত্র আমাদের অনুকরণের জন্য উত্তম নমুনা বা সুন্নত। (বুখারী শরীফ, ২য় খণ্ড, ১০৮৪)

৫। সিনেমা সম্পর্কে মিস্টার মওদুদীর বক্তব্যঃ প্রকৃতরূপে সিনেমা দেখা জায়িয। (নাঊযুবিল্লাহ) (রাছায়েল মাছায়েল, ২য় খণ্ড, ২৬৬ পৃষ্ঠা)

@@ইসলাম ধর্ম বলে, সিনেমা দেখা নাজায়িয ও হারাম। (কিফায়াতুল মুফতিয়ীন, ২য় খণ্ড, ১৭৬ পৃষ্ঠা)

৬। নামায, রোযা ইত্যাদি সম্পর্কে মিস্টার মওদুদীর বক্তব্যঃ দ্বীনের আসল মকছুদ ইসলামী হুকুমত। নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি সমস্ত ইবাদতই উক্ত মকছুদ অর্জনের মাধ্যম। (নাঊযুবিল্লাহ) (আকাবেরে উম্মত কী নজরমে, ৬৪ পৃষ্ঠা)

@@ইসলাম ধর্ম বলে, দ্বীনের আসল মকছুদ নামায, রোযা, হজ্ব, যাকাত ইত্যাদি কায়েম করা। ইসলামী হুকমত উক্ত মকছুদ অর্জনে সহায়ক। (শরহুল আকায়েদ, ৩০৪ পৃষ্ঠা)

>>মিস্টার মওদুদীর উপরোক্ত মন্তব্যের ফল এই দাঁড়ায় যে, ইসলামী হুকুমত অর্জিত হলে নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি ইবাদতের কোন প্রয়োজন নেই। যেহেতু মকছুদ অর্জিত হলে মাধ্যমের আর প্রয়োজন থাকে না। (নাঊযুবিল্লাহ)

৭। যাকাত সম্পর্কে মিস্টার মওদুদীর বক্তব্যঃ মিস্টার মওদুদী বলে, যাকাত আদায়ের জন্য তামলীকে ফকীর জরুরী নয়। (নাঊযুবিল্লাহ) (তরজুমানুল কুরআন, যিলহজ্জ সংখ্যা, ১৩৭৫ হিজরী)

@@ইসলাম ধর্ম বলে, যাকাত আদায়ের জন্য তামলীকে ফকীর (দরিদ্রকে মালিক বানানো) জরুরী। (মাকছুত, ২য় খণ্ড, ২০২ পৃষ্ঠা)

৮। যাকাতের টাকা সম্পর্কে মিস্টার মওদুদীর বক্তব্যঃ মসজিদ, কূপ, পুকুর প্রভৃতির নির্মাণ কার্যে যাকাতের

টাকা ব্যবহার করা জায়িয। (নাঊযুবিল্লাহ) (তরজুমানুল কুরআন, যিলহজ্জ সংখ্যা, ১৩৭৫ সংখ্যা)

@@ইসলাম ধর্ম বলে, মসজিদ, কূপ, পুকুর ইত্যাদি প্রভৃতির নির্মাণ কার্যে যাকাতের টাকা ব্যবহার করা জায়িয নেই। (কিফায়াতুল মুফতী, ৪র্থ খণ্ড, ২৮১ পৃষ্ঠা)

৯। যাকাতের মাল হতে আপন ভাতা গ্রহণ সম্পর্কে মিস্টার মওদুদীর বক্তব্যঃ ইসলামী হুকুমতের

নির্ধারণ ছাড়াই যদি কোন ব্যক্তি, দল বা জামায়াত যাকাত আদায়, গণনা ও বণ্টনের জন্য দাঁড়ায় তবে সেও আপন ভাতা যাকাতের মাল হতে গ্রহণ করতে পারবে। (নাঊযুবিল্লাহ) (রাছায়েল মাছায়েল, ২য় খণ্ড, ২৪২ পৃষ্ঠা)

@@ইসলাম ধর্ম বলে, ইসলামী হুকুমতের পক্ষ হতে ধনীদের কাছ থেকে যাকাত আদায়ের জন্য নির্ধারিত ব্যক্তিই কেবল যাকাতের মাল হতে আপন ভাতা পাওয়া যোগ্য। (আহছানুল ফতওয়া, ৪র্থ খণ্ড, ২৮৫ পৃষ্ঠা)

১০। সাহরী সম্পর্কে মিস্টার মওদুদীর বক্তব্যঃ

@@ইসলাম ধর্ম বলে, সাহরীর শেষ সীমা সুবহে সাদিক। সুবহে সাদিক হওয়ার পর পানাহার করলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। (তিরমিযী শরীফ, ১২৫ পৃষ্ঠা)

@@মিস্টার মওদুদী বলে, সাহরীর জন্য এমন কোন শেষ সীমা নির্দিষ্ট নেই, যার

কয়েক সেকেন্ড বা কয়েক মিনিট এদিক ওদিক হলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। (নাঊযুবিল্লাহ) (তাফহীমুল কুরআন, ১ম খন্ড, ১৪৬ পৃষ্ঠা)

###মুখে এক আর অন্তরে আরেক। ইসলামের পরিভাষায় এদের বলা হয় মুনাফিক। মুনাফিক যে কারণে দো-দেল বা দো- যবান হয় তার পিছনে মূল কাজ করে স্বার্থগত প্রবণতা তথা দুনিয়ার লিপ্সা। এ লিপ্সা হতে পারে প্রভাব প্রতিপত্তির, হতে পারে অর্থের, হতে পারে রাজনৈতিক ক্ষমতার। সারা জীবন গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে বলে, নারী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বলে, শহীদ মিনারে ফুল দেয়া শিরক বলে আজ নিজামী-সাঈদী গং সেসব কাজই সমর্থন করছে। পাশাপাশি মদের দাম কমানোসহ মদের কারখানার অনুমতি দিলেও বা আমেরিকা-আফগানিস্তানসহ ইরাক আক্রমণ করলেও সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করে গেছে, ইসলামের নাম ভাঙিয়ে আকাশ ফাটানো শ্লোগানধারী বর্ণচোরা ঐ মহলটি। তবে যে কথা এখানে বিশেষভাবে উল্ল যে, বর্ণচোরা ঐ মহলটি জন্মগতভাবেই পেয়েছে গিরগিটির ন্যায় ঘন ঘন রং বদলানোর প্রবণতা তথা মুনাফিকী খাছলত।

@@হাদীছ শরীফ-এ মুনাফিকদের চারটি খাছলত বর্ণনা করা হয়েছে। তন্মধ্যে দু’টি হলো-

১.কথা বললে মিথ্যা বলা,

২.ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করা।

হাদীছ শরীফ-এর এ ভাষ্য অনুযায়ী তথাকথিত জামাতে ইসলামীর জন্মদাতা মওদুদী কোন্ পর্যায়ের মুনাফিকরূপে সাব্যস্ত হন তা বিচারের জন্য পাঠকের নিকট নারী নেতৃত্ব সম্পর্কে মওদুদীর পরস্পর বিরোধী মন্তব্য ও বক্তব্য (প্রথম পর্যায়ে ইসলামী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবার প্রচেষ্টায় নারী নেতৃত্বের বিপক্ষে এবং পরবর্তিতে তথাকথিত ইসলামী দলের ভিত্তিতে ক্ষমতার অংশীদারিত্ব পাবার লোভে নারী নেতৃত্ব সমর্থনের পক্ষে) যা চরম নির্লজ্জতার, বেহায়াপনার ও নগ্ন স্বার্থবাদিতার জ্বলন্ত প্রমাণ এখানে পেশ করা গেলো-

@@নারী ও আইন পরিষদঃ মাওলানা মওদুদী মাসিক তরজুমানুল কোরআন ১৯৫২ সালে আগস্ট সংখ্যায় পাকিস্তানের জন্য কতিপয় সাংবিধানিক প্রস্তাব পেশ করে। উক্ত প্রস্তাবগুলোর বিরুদ্ধে কোন কোন মহল থেকে যে সব অভিযোগ উত্থাপিত হয়, তার উত্তর সে তরজুমানুল কোরআনের সেপ্টেম্বর সংখ্যায় প্রদান করে। তন্মধ্যে একটি অভিযোগ ছিল, ‘কোন নারীর আইন পরিষদ সদস্য হওয়া উচিত নয়’ তার এই প্রস্তাবের উপর। এর উত্তরে মাওলানা মওদুদী যা কিছু লিখেছে, তা মাসিক আল ফুরকানেও ১৯৫২ সালে লিপিবদ্ধ হয়। যার বিবরণ

নিম্নরূপ:

প্রথম পর্যায় (যখন মাওঃ মওদুদীর ইসলামী দলের প্রতিষ্ঠা পাবার পথে প্রচেষ্ট) একটি অভিযোগ আমার এই প্রস্তাবের উপর উত্থাপন করা হয় যে, “কোন নারীর আইন পরিষদ সদস্যা হওয়া উচিত নয়।” এ প্রসঙ্গে আমার নিকট প্রশ্ন করা হয় যে, সেটা কোন্ ইসলামী নীতি, যেটা নারীদেরকে সদস্যা হওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করে?

কুরআন-হাদীছের সেই নির্দেশ কোনটি, যেটা আইন পরিষদের সদস্যপদ পুরুষদের জন্যই রিজার্ভ বলে সাব্যস্ত করে? উক্ত প্রশ্নের উত্তর প্রদানের আগে, এটা জরুরী মনে করি, যে আইন পরিষদের সদস্য পদের জন্য নারীদের নিয়ে আলোচনা চলছে, তার সঠিক ধরন ও স্বরূপ পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা। উক্ত পরিষদসমূহের নাম ‘আইন পরিষদ’ রাখার কারণে এ ভুল ধারণার সৃষ্টি হচ্ছে যে, উক্ত পরিষদসমূহের কাজ কেবল আইন তৈরি করা। এ ভুল ধারণা পোষণ করে মানুষ যখন দেখতে পায় যে, ছাহাবায়ে কেরামের যুগে মুসলিম নারীগণও আইন-বিষয়ক মাসয়ালার আলাপ-আলোচনা, গবেষণা, মত প্রকাশ সবকিছু করতেন এবং অনেক সময় স্বয়ং ‘খলীফা’ তাঁদের মতামত জেনে নিয়ে সে অনুসারে কাজও করতেন তখন তারা আশ্চর্যান্বিত হয় যে, বর্তমানে ইসলামী নীতিমালার নাম নিয়ে এ ধরনের ‘পরিষদে’ নারীদের অংশগ্রহণকে কিভাবে গলদ বলা যেতে পারে। কিন্তু, আসল ঘটনা হলো এই যে, বর্তমান যুগে যে সব পরিষদ উক্ত নামে আখ্যায়িত হয়, সেসবের কাজ কেবল আইন তৈরি করা নয়। বরং বাস্তব ক্ষেত্রে উক্ত পরিষদই সমগ্র দেশের প্রশাসন ও রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে, মন্ত্রিপরিষদ গঠন করে, মন্ত্রী পরিষদ ভেঙে দেয়, আইন- শৃঙ্খলার যাবতীয় নীতি নির্ধারণ করে, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিষয়াদি নির্ধারণ করে এবং যুদ্ধ, শান্তি ও চুক্তি সন্ধি সবকিছুর চাবিকাঠি তারই হাতে থাকে। এ হিসেবে উক্ত পরিষদের স্থান কেবল একজন আইনজ্ঞ ও মুফতির স্থান বিশেষ নয়, বরং সমগ্র দেশের নেতৃত্বেরই বিশেষ স্থান। কোরআন মানুষের জীবনে এ বিশেষ স্থান ও দায়িত্ব কাকে দিয়ে থাকে এবং কাকে দেয়না, তা একবার পাঠ করে দেখুন।

@@মহান আল্লাহ পাক ‘সূরা নিসা’-এর ৩৪ নম্বর আয়াত শরীফ-এ বলেন,

“পুরুষেরা নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল। এজন্য যে, আল্লাহ পাক একের উপর অন্যের বৈশিষ্ট্য দান করেছেন এবং এ জন্য যে, তারা তাদের অর্থ ব্যয় করে। সে মতে নেক্কার স্ত্রীলোকগণ হয় অনুগতা এবং আল্লাহ পাক যা রক্ষণীয়

করেছেন, লোকচক্ষুর অন্তরালেও তার হিফাযত করে।”

##মহান আল্লাহ পাক উক্ত আয়াতে পরিষ্কার ভাষায় কওয়ামিয়্যাত’ বা ‘কর্তৃত্বের’ গুরু দায়িত্ব ও জিম্মাদারী পুরুষকেই প্রদান করেছেন এবং নেক্কার নারীদের দু’টি বৈশিষ্ট্যের বিষয় বর্ণনা করেছেন,

১. তারা যেন আনুগত্যপরায়ণা হয় এবং

২. পুরুষদের অনুপসি’তে সে সব

বস্তুকে হিফাযত করে যেগুলোকে মহান আল্লাহ পাক হিফাযত করতে চান। আপনি হয়তো বলবেন যে, এটা তো পারিবারিক জীবনের জন্য বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় প্রশাসন প্রসঙ্গে তো বলা হয়নি। কিন্তু, এখানে জেনে রাখা দরকার যে

প্রথমতঃ ‘পুরুষগণ নারীদের সরদার বা নেতা’ এটা সাধারণ ভাবে বলা হয়েছে। ‘ফিলবুয়ুত’ বা ‘গৃহভ্যন্তরে’ এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হয়নি। তাই এ হুকুমকে কেবল পারিবারিক জীবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা যায়না।

দ্বিতীয়তঃ আপনার একথা যদি মেনেও নেয়া যায়, তবু আমি (মওদুদী) জিজ্ঞেস করছি, যাকে পরিবার বা গৃহে নেতৃত্বের স্থান বা জিম্মাদারী প্রদান করা হয়নি বরং অধীনস্থ (অনুগতা)-এর স্থানে রাখা হয়েছে, আপনি তাকে সমস্ত গৃহের একত্রিত রূপ অর্থাৎ সমগ্র রাষ্ট্রে অধীনস্থতার পর্যায় থেকে তুলে নিয়ে নেতৃত্বের স্থানে নিয়ে যেতে চান? গৃহের নেতৃত্বের চেয়ে রাষ্ট্রের নেতৃত্ব তো অনেক বড় এবং উচ্চ পর্যায়ের জিম্মাদারী। এখন আল্লাহ পাক

সম্পর্কে আপনার কি এই ধারণা যে, তিনি নারীকে তো একটি গৃহের নেতা বা সরদার করছেন না, কিন্তু লাখ

লাখ ঘরের একত্রিত রূপ রাষ্ট্রের তাকে নেতা করবেন?

পবিত্র কোরআন পরিষ্কার ভাষায় নারীদের কর্মপরিধি নির্ধারিত করে দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক বলেন,

“তোমরা গৃহভ্যন্তরে অবস্থান করবে,

মূর্খতা যুগের অনুরূপ নিজেদের প্রদর্শন

করবে না।” (সূরা আহযাব- ৪)

তারপর আপনি বলবেন যে, এ আদেশ তো নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সম্মানিত নারীদেরকেই দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু আমার (মওদুদী) প্রশ্ন হলো যে, আপনার পবিত্র ধারণায় নবী পরিবারের নারীদের মধ্যে কী কোন বিশেষ দোষত্রুটি ছিল, যার কারণে পরিবারের বাইরে কোন দায়িত্ব পালনে তাঁরা অযোগ্য ছিলেন? এদিক দিয়ে অন্যান্য নারীরা কি তাঁদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলো? কুরআনের এ পর্যায়ের যাবতীয় আয়াত যদি কেবল নবী পরিবারের জন্যই অবতীর্ণ হয়, তবে কি অন্যান্য মুসলিম নারীদের ‘তাবাররুজে জাহেলীয়্যাত’ বা জাহেলীয়্যাত যুগের সাজে বের হওয়ার অনুমতি রয়েছে? তাদের জন্য কি বেগানা পুরুষদের সাথে এমন ভাবে কথা বলার অনুমতি রয়েছে, যাতে তাদের অন্তরে লোভ লালসার সৃষ্টি হয়? মহান আল্লাহ পাক

কী নবী পরিবার ব্যতীত অন্যান্য মুসলিম পরিবারকে ‘রিজস’ বা ‘অপবিত্রতা’ লিপ্তাবস্থায় দেখতে চান? এবার আসুন হাদীছের দিকে।

>>নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

“যখন তোমাদের ধনী শ্রেণী কৃপণ হবে, যখন তোমাদের যাবতীয় কাজে কর্তৃত্ব তোমাদের নারীদের হাতে চলে যাবে, তখন তোমাদের জন্য পৃথিবীর উপরিভাগের চেয়ে অভ্যন্তর ভাগ অধিক কল্যাণকর হবে।” (তিরমিযী

“হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। যখন নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট এ সংবাদ পৌঁছলো যে, (ইরানী) পারস্যের জনগণ কিসরার কন্যাকে (মেয়ে) তাদের বাদশাহ মনোনীত করেছে, তখন তিনি বললেন, সে জাতি কখনো সাফল্য অর্জন করতে পারে না, যে জাতি স্বীয় কাজকর্মের কর্তৃত্ব ও দায়িত্বভার একজন নারীর হাতে সোপর্দ করে।” (বুখারী ও তিরমিযী)

উপরোক্ত হাদীছ দু’টি মহান আল্লাহ পাক- এর বাণী ‘পুরুষরা নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল’- এর প্রকৃত ব্যাখ্যা বর্ণনা করে। এর দ্বারা পরিষ্কারভাবে বুঝা যায় যে, রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনা নারী জাতির কর্ম পরিধির বহির্ভূত বিষয়। একটা প্রশ্ন অবশ্য থেকে যায়, তাহলো নারীদের কর্মপরিধি কি? এ প্রশ্নের উত্তরে নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এ হাদীছ শরীফটি পরিষ্কার ব্যক্ত করে যে,

“…. এবং নারী তার স্বামীর গৃহ এবং তার

সন্তানদের হিফাযতকারিনী। তাদের

সম্পর্কে সে জিজ্ঞাসিত হবে।” (আবূ দাউদ)

@@পবিত্র কুরআন শরীফ-এর বাণী ‘এবং তোমরা তোমাদের গৃহসমূহেই অবস্থান করবে’ এর সঠিক ব্যাখ্যা এটাই যা উল্লিখিত হাদীছ শরীফ দ্বারা বুঝা গেলো। এর অতিরিক্ত ব্যাখ্যায় রয়েছে সে সব হাদীছ, যেগুলোতে নারীদেরকে রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার চেয়ে নিম্ন পর্যায়ের কাজ গৃহবহির্ভূত ফরয ও ওয়াজিব থেকেও নিষ্কৃতি দেয়া হয়েছে।

>>‘জুমুয়ার নামায জামায়াতের সাথে আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানদের অধিকার ও দায়িত্ব। কিন্তু, চার

ব্যক্তি ব্যতীত: গোলাম, নারী, ছেলে- মেয়ে ও অসুস্থ ব্যক্তি।”(আবু দাউদ)

>>“হযরত উম্মে আতীয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, আমাদেরকে জানাযার সাথে চলতে নিষেধ করা হয়েছে।” (বুখারী)

“যদিও আমাদের মত ও দৃষ্টিভঙ্গীর পক্ষে আমাদের নিকট শক্তিশালী যৌক্তিক প্রমাণাদিও রয়েছে এবং কেউ চ্যালেঞ্জ করলে সেগুলো পেশও করতে পারে,

কিন্তু প্রথমতঃ এ সম্পর্কে কোন প্রশ্ন করা হয়নি।

দ্বিতীয়তঃ আমরা কোন মুসলমানের এ হক বা অধিকার স্বীকারও করি না যে, সে আল্লাহ পাক ও তাঁর রসূল

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুস্পষ্ট আহকাম শুনার পর সেমতে আমল করার আগে এবং আমল করার জন্য শর্ত হিসেবে যুক্তি সংক্রান্ত প্রমাণাদির দাবি করবে।

কোন মুসলমান যদি সত্যিকার অর্থে সে মুসলমান হয়, তবে প্রথমে হুকুম মোতাবেক আমল করা তার দরকার এবং পরে স্বীয় মনমস্তিষ্ককে আশ্বস্ত করার জন্য যুক্তিপ্রমাণ তালাশ করতে পারে। কিন্তু সে যদি বলে, আমাকে আগে যুক্তি প্রমাণ দিয়ে মানসিকভাবে আশ্বস্ত করো, অন্যথায় আমি আল্লাহ পাক ও তাঁর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হুকুম মানবো না, তা হলে আমি তাকে মুসলমান বলেও গণ্য করবো না। তাকে একটি ইসলামী রাষ্ট্রের জন্য সংবিধান তৈরির অধিকারী হিসেবে গণ্য করা তো অনেক দূরের কথা। শরীয়তের হুকুম মতে আমল করার জন্য যে ব্যক্তি যুক্তি প্রমাণ তলব করে, তার স্থান ইসলামের গণ্ডিবহির্ভূত, অন্তর্ভুক্ত নয়।” (সূত্রঃ মাওঃ মওদুদীর সাথে আমার সাহচর্যের ইতিবৃত্ত। লেখকঃ মনজুর নোমানী)

@@উল্লেখ্য মাওলানা মওদুদী এ প্রবন্ধে পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত করেছে যে, ইসলাম এবং ইসলামী শরীয়তে কোন নারীর জন্য আইন-পরিষদের সদস্য হওয়ার অবকাশ নেই, আর এটা ইজতেহাদী (তথা অনুমানভিত্তিক) মাসয়ালাও নয়, বরং এ সম্পর্কে আল্লাহ পাক ও তাঁর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুস্পষ্ট বিধান ও নির্দেশাবলী রয়েছে এবং কোন মুসলমান (সত্যিকার) মুসলমান হওয়ার জন্য এটা শর্ত যে, এ হুকুমকে নির্দ্বিধায়

মেনে নেয়া। কিন্তু এর মাত্র কয়েক বছর পর মওদুদী এক চিঠিতে যা লিখে, মওদুদীর পরবর্তী বক্তব্য (তথাকথিত ইসলামী দলের ভিত্তিতে ক্ষমতার অংশীদারিত্ব পাবার লোভে নারী নেতৃত্ব সমর্থনের পক্ষে)

পত্র নং- ৮৯

শ্রদ্ধেয়,

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

আপনার পত্র পেয়েছি। আমাদের মত যুলুম ও স্বৈরাচারী নীতির প্রচলন থাকা মস্তবড় গুনাহ। এর পরিবর্তনের জন্য একজন মহিলার নেতৃত্ব গ্রহণ করা ছাড়া আর কোন উপায় যদি না থাকে তবে তা হবে একটি বড় বিপদকে দূর করার জন্য ছোট বিপদের সাহায্য গ্রহণ করা, যার অনুমোদন শরীয়াতে আছে। (নাঊযুবিল্লাহ)

খাকসার আবুল আলা

প্রাপক, আব্দুল হাই সাহেব, সুলতানপুর, আজমগড়, ইন্ডিয়া।

মন্তব্য: এ চিঠিতে সে বলেছে যে স্বৈরাচার পরিবর্তনের জন্য একজন মহিলার নেতৃত্ব গ্রহন ছাড়া আর কোন উপায় যদি না থাকে তবে নারী নেতৃত্ব গ্রহণের অনুমোদন শরীয়তে আছে। অথচ ১৯৫২ সালের ‘মাসিক তরজুমানুল কোরআন’ ও ‘মাসিক আল ফুরকান’ পত্রিকায় সেই লিখেছে নারী নেতৃত্ব কোন ইজতিহাদী মাসয়ালা নয়। অর্থাৎ কোন মাওলানা, কোন শাইখুল হাদীছ, কোন খতীব, কোন মুফাস্সিরে কুরআন, কোন মুফতির কিয়াস, পর্যালোচনা মতামত বা অভিমত খাটানো এখানে চলবে না। বড় খারাপ মোকাবিলায় ছোট খারাপ গ্রহণ এ জাতীয় কথা এখানে বলা চলবে না।

@@মওদুদীর ভাষায়: “শরীয়তের হুকুম মতে আমল করার জন্য যে ব্যক্তি যুক্তি প্রমাণ তলব করে তার স্থান ইসলাম গণ্ডীবহির্ভূত; অন্তর্ভুক্ত নয়।” অর্থাৎ মাওঃ মওদুদীর ফতওয়া অনুযায়ীই সে ইসলামের গণ্ডীবহির্ভূত। অন্তর্ভুক্ত বা মুসলমান সে নয়। বরং হাদীছ শরীফ-এর বিচারে স্পষ্ট মুনাফিকই তাকে বলা যায়।

@@এখানে উল্লেখ্য, ব্রিটেন থেকে প্রকাশিত ‘দ্য মিত্রোথি আর্কাইভ’ নামক বইয়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “ধর্মীয় দল জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আবুল আলা মওদুদী ছিলেন সি.আই.এ’র এজেন্ট।

>ফিরআউনের কাহিনীও মওদুদীর প্রতি প্রযোজ্য হয়। একবার মানুষের ছুরতে হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম এসে ফিরআউনকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কোন মনিব যদি কোনো গোলামকে তার প্রয়োজনের চাইতে অনেক বেশি দেয় পরবর্তিতে সে গোলাম যদি উক্ত মনিবের বিরোধিতা করে তাহলে তার কি শাস্তি হওয়া উচিত?

>জবাবে ফিরআউন তখন দ্বিধাহীন চিত্তে বলেছিল তাকে লোহিত সাগরের পানিতে চুবিয়ে মারা উচিত।

আল্লাহ পাক আপন কুদরতে ফিরআউনের মুখেই তার শাস্তির কথা উল্লেখ করিয়েছিলেন। তদ্রুপ তথাকথিত

ইসলামী জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মওদুদীর হাক্বীকত কী তা কুদরতময় আল্লাহ পাক তার হাত দিয়েই লিখিয়েছেন। এর প্রমাণ স্বরূপ নারী নেতৃত্ব সম্পর্কে মওদুদীর আরো চিঠির উল্লেখ করা যায়। যেমন

মওদুদী বলে:

@পত্র- ৮৭, ২১শে নভেম্বর, ‘৬৪

শ্রদ্ধেয়,

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

আপনার চিঠি পেয়েছি। আল্লার যমীনে আল্লার আইন প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের উদ্দেশ্য। আমাদের পথ থেকে বর্তমান একনায়কত্ব হটানো ছাড়া এ উদ্দেশ্য হাসিল হতে পারে না। এ সময়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফাতেমা জিন্নাহকে সহায় হটানোর আর অন্য কোনা বাস্তব পন্থা নেই। এ সময়ে যদি তৃতীয় একজন প্রার্থীকে প্রেসিডেন্টের জন্যে দাঁড় করানো হয় তবে এটা প্রকৃতপক্ষে আইয়ুব খানকে একনায়কত্বে প্রতিষ্ঠিত রাখারই

প্রচেষ্টা হবে।

খাকসার আবুল আলা

প্রাপক কাযী নাসীর আহমদ সাহেব

নারুওয়াল।

@পত্র- ৮৮, ২১শে নভেম্বর- ‘৬৪

শ্রদ্ধেয়,

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

আপনার চিঠি পেয়েছি। আপনার পেশকৃত প্রস্তাব শরীয়াতের দৃষ্টিতে ঠিক নয়। আমরা অবৈধ পন্থায় জয়কে পরাজয় এবং বৈধ উপায়ের পরাজয়কে জয় মনে করে থাকি। জাল ভোট গ্রহণ করা অথবা টাকা দিয়ে ভোট কেনা এ দেশের জন্যে এমন ধ্বংসাত্মক যেমন ক্ষতিকর একনায়কত্ব। এ পন্থায় যারা নির্বাচনে জয়লাভ করবে তাদের দ্বারা কোনো সংস্কার ও কল্যাণধর্মী কাজ হতে পারে না।

খাকসার, আবুল আলা

প্রাপক, আবু নোমান, শিয়ালকোট।

(সূত্র: মওদুদীর পত্রাবলী: আধুনিক প্রকাশনী)

@মন্তব্য: ৮৮ নং চিঠিতে মওদুদী মন্তব্য করেছে আমরা অবৈধ পন্থায় জয়কে পরাজয় এবং বৈধ উপায়ের পরাজয়কে জয় মনে করে থাকি। যদি তাই

@হয়ে থাকে তাহলে ৮৭ নং প্রশ্নে উল্লিখিত “এ সময়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফাতেমা জিন্নাহকে সহায়

হটানোর আর অন্য কোন বাস্তব পন্থা নেই।” এই বক্তব্যও পরাজয়েরই পথ। কারণ মওদুদী নিজেই স্বীকার

করেছে নারী নেতৃত্ব হারাম এটা কুরআন-সুন্নাহর দ্বারা সরাসরি ছাবেত। এর মধ্যে মানুষের ইজতিহাদ করার কিছু নেই। এটা স্পষ্ট হারাম। যে হালাল বলবে সে মুসলমানই থাকবে না। তাহলে সে হারাম পথে যদি বিজয়

আসেও সে হারাম পথে আইয়ুব খান তথা একনায়কতন্ত্রকে যদি ঠেকানো যেতো তাহলেও মওদুদীর ভাষ্যানুযায়ী তা হত পরাজয়। কারণ তা হারাম পথে তথা অবৈধ পন্থায়।

আর মওদুদী নিজেও স্বীকার করেছে আমরা অবৈধ পন্থায় জয়কে পরাজয় এবং বৈধ উপায়ের পরাজয়কে জয় মনে করে থাকি। কিন্তু কার্যত মওদুদী সেই হারাম পথেই গিয়েছে এবং তার কথিত পরাজয়ের পথেই তার কবর রচিত হয়েছে এবং তার প্রতিষ্ঠিত তথাকথিত জামাতে ইসলামী অদ্যাবধি সে পরাজয় পথে তথা হারাম পথেই রয়েছে। যা তাদের স্বীকারোক্তিতেও বিদ্যমান।

##১৯৯৪ সালে প্রকাশিত এসোসিয়েশন অফ মাওলানা সাঈদী সাপোর্টাস- এর বিশেষ বুলেটিন ‘মূলধারার’

সাথে সাক্ষাৎকারে সাঈদী যা বলেছ

>প্রশ: আপনে সর্বদা নারী নেতৃত্ব বিরোধী বক্তব্য দিয়ে থাকেন? অথচ ৯১ এর নির্বাচনের পর নারী নেতৃত্বকে সমর্থন দিলেন কেন?

>উত্তর: আমরা নারী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অতীতেও বক্তব্য রেখেছি। এখনো আমরা সে অবস্থান থেকে সরে যাইনি। জনগণকে সবসময়ই বুঝাচ্ছি ইসলামে নারী নেতৃত্ব স্বীকৃত নয়। নারী নেতৃত্বকে আমরা সমর্থন

দেইনি।

## কিন্তু পাঠক! ৯১-এ বি.এন.পির সাথে আঁতাত, ৯৬-এ আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত এবং বর্তমান জোট নেত্রীর সক্রিয় অনুসরণ-অনুকরণ তথা একাত্মতা দ্বারা সাঈদীর উপরোক্ত কথার সত্যতা কত চরম

মিথ্যা তা উপলব্ধি করার ক্ষমতাও বোধ হয় সুস্থ মানুষের নেই। মূলত এহেন চশমখোর গোষ্ঠীর পক্ষেই সম্ভব ৭১-এর মত রাজাকারগিরি করা, নারী-ধর্ষণ হত্যা ও লুটতরাজের মহোৎসব করা। কারণ

আসলে তো এরা ইসলাম করে না। করে ইসলামের লেবেল এঁটে স্বার্থের রাজনীতি। স্বার্থের জন্যই আজনারী নেতৃত হারাম বলে কাল হালাল বলে।

আর এরূপ স্বার্থবাদী রাজনীতি করে বলেই দে.হো সাঈদী অতীতে আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত প্রসঙ্গে নিউইয়র্ক থেকে ‘৯০ সালে প্রকাশিত

‘সাপ্তাহিক ঠিকানায়’ এক সাক্ষাৎকারে বলেছে

@@প্রশ্ন: গোলাম আযমের নাগরিকত্ব প্রাপ্তির পর আওয়ামী লীগের সাথে জামায়াতের সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ

হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে আপনি কি বলেন?

##সাঈদী (মুচকি হেসে): রাজনীতিতে স্থায়ী শত্রু বা শেষ কথা বলে কিছু নেই। (অর্থাৎ ইসলামকে এরা রাজনীতি হিসেবে ব্যবহ করে ইসলাম হিসেবে মানে না এবং এরা অন্যান্য দুনিয়াবী রাজনীতিবিদদের মতই)

বাস্তবেও তাই হয়েছে। এরা ঠিকই ৯৬-এ আওয়ীমী লীগের সাথে আঁতাত করেছে। আবার বেশি ক্ষমতা পাওয়ার জন্য ৯৯-এ বিএনপির সাথে আঁতাত করেছে। তাদের নিজামী বলেছে ইসলাম কায়েমের জন্য নয় বরং আওয়ামী লীগকে ঠেকানোর জন্য তারা নির্বাচন করেছে। অথচ এ নির্বাচনকে তারা আখ্যা দিয়েছে জি ফি সাবিলিল্লাহ। এর জন্য মাল, অর্থ-সময় সব কিছু দেয়াকে তারা জিহাদ বলে উল্লেখ করেছে।

কাজেই ধর্মের নামে এভাবে ধোঁকা প্রতারণা, মুনাফিকী আর কত দিন। হাদীছ শরীফ-এ এদেরকে যমীনের নিকৃষ্ট বলা হয়েছে। এদের কাছে না যেতে এবং কাছে আসতে না তাহলে তারা আমাদের গুমরাহ করতে পারবে না তাও বলা হয়েছে।

তাহলে মুসলিম পাঠকগন এখন কি বলবেন?

https://www.facebook.com/gpmuslim/posts/373550092778000?comment_id=1692027&offset=0&total_comments=4¬if_t=feed_comment_reply

বিষয়: বিবিধ

৭৮৬ বার পঠিত, ৩৩ টি মন্তব্য

পাঠকের মন্তব্য:

131404
০৬ অক্টোবর ২০১৩ রাত ১২:৪৩
বিষুব আহমেদ লিখেছেন : নতুন বোতলে পুরান মদ, গবেষনা কইরা নতুন কিছু পারলে লেখেন বাদ দাদার আবিষ্কার লইয়া আর কতদিন চালাইবেন
০৬ অক্টোবর ২০১৩ রাত ০১:১৫
89493
অজানা পথিক লিখেছেন : কেয়ামত পর্যন্ত চলবে
131412
০৬ অক্টোবর ২০১৩ রাত ০১:২৫
এলিট লিখেছেন :
আপনার ভাষ্যমতে লেখাটা সংগ্রহীত। তার মানে আপনি এর লেখক নন। আপনি লেখাটা সমর্থন ও শেয়ার করছেন মাত্র। এই লেখা পড়ে যদি কোন জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী উক্ত দল করা ছেড়ে দেয় তবে আপনাকে সাধুবাদ। এটা আমার ভাববার কোন বিষয় নয়। আমি এই মন্তব্য লেখার কস্টটুকু করছি সেইসব সাধারন পাঠকের জন্য যারা এই তথ্যবহুল লেখাটি পড়ে সিধান্ত হীনতায় পড়ে যায়।
লেখাটি পড়ে মনে হয় লেখক ইসলামের একজন একনিস্ট প্রেমিক। মওদুদীর ধোকায় পড়ে এত লোকের ইসলাম নস্ট হয়ে যাচ্ছে দেখে লেখক বিচলিত। তাই উনি চেস্টা করেছেন মওদুদীর দোষ ত্রুটি দেখিয়ে উনার কবল থেকে আমাদের রক্ষা করতে। মজার ব্যাপার, যখন রাজীব (থাবা বাবা) ইসলামকে গালাগালি দেয়, যখন দেশের নেতারা নিহত রাজীবকে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের শহিদ বানায়, যখন রাজপুত্র জয় মাদ্রাসা ছাত্র কমাতে চায়, যখন দলীয় নীতিমালাতে আল্লাহর নাম থাকাতে একটি দল নিষিদ্ধ হয়, যখন নারীর ফরজ পর্দার জন্য কোন ছাত্রীকে বহিস্কার করা হয় - তখন সুচিন্তিত এই লেখক কিন্তু চুপ থাকেন। তিনি তখন এসব বিষয়ে কোরআনের কোন আয়াত খুজে পান না। লেখক আসলে ইসলামের পক্ষে নন। ইসলামের পক্ষে হলে ইসলাম অবমাননা হলেই তার কলমে লেখা চলে আসত। উনি জামায়াতের বিপক্ষে, তাই মওদুদীর বিষয়ে তার কলম ভালো চলেছে। একজন একটি রাজনৈতিক দলের বিপক্ষে থাকতেই পারে। এটা সরাসরি বললেই উনি ভালো করতেন।
জামায়াতে ইসলামের প্রতিস্টাতা জনাব মওদুদী কোন মওলানা নন। বাল্যকালে মাদ্রাসাতে ভর্তি হলেও যৌবনে তার লেখাপড়া ছিল বিজ্ঞান বিষয়ে। ইসলাম নিয়ে ফতোয়া দেওয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা তার ছিল না। ব্যক্তিগত উদ্দোগে ইসলাম নিয়ে পড়াশোনা করে উনি অনেক বই লিখেছেন। বেশ ভালো লেখক ছিলেন এবং তার বইতে প্রচুর সঠিক কথা রয়েছে। এর সাথে অনেক ভুল কথাও রয়েছে। তার প্রতিস্টা করা জামায়াতে ইসলাম দলটিও ত্রুটিমুক্ত নয়। বাংলাদেশে আরো অনেক ইসলামিক দল রয়েছে। সেগুলোও ত্রুটিপুর্ন। কোন দল মাজারপন্থী, কোন দল পীরপন্থী, ইত্যাদি।
বাংলাদেশে ইসলাম এখন বিপন্ন। এই অবস্থায় ইসলাম বিরোধীরা চাচ্ছে ইসলামিক দলগুলো বিভিন্ন ছুতোয় ঝগড়া করে আলাদা থাকুক। এখন এই ত্রুটি সংশোধনের সময় নয়। এখন সময় ইসলামিক সব দলগুলি এক হয়ে ইসলাম রক্ষা করার। যে দেশে ইসলাম সুরক্ষিত নয় সেই দেশে আগে ইসলাম সুরক্ষিত করতে হবে এর পরে ত্রুটি সংশোধন করতে হবে।
০৬ অক্টোবর ২০১৩ রাত ০১:৩৩
89496
অজানা পথিক লিখেছেন : যে দেশে ইসলাম সুরক্ষিত নয় সেই দেশে আগে ইসলাম সুরক্ষিত করতে হবে এর পরে ত্রুটি সংশোধন করতে হবে।
সহমত
০৬ অক্টোবর ২০১৩ সকাল ০৯:২১
89522
তিতুমীর লিখেছেন : ভালো লিখেছেন, সহমত।
131417
০৬ অক্টোবর ২০১৩ রাত ০১:৪৩
কবিতা লিখেছেন : আজকের পর থেকে আর আমি আর আপনার লেখা পড়ব না কাজেই আপনি আমাকে আর আপনার লেখা পড়ার আমন্ত্রন জানাবেন না দয়া করে ।আপনি গীবত কারী।
০৬ অক্টোবর ২০১৩ দুপুর ০২:০২
89574
আহমদ মুসা লিখেছেন : এতো অধর্য হলে চলবে? আপনি যদি নিজেকে হকের উপর প্রতিষ্ঠিত মনে করেন তবে আপনার অবস্থানের পক্ষে চোরালো যু্ক্তি দিয়ে প্রতিবাদ করুন। আপনি না পড়লেও কিন্তু পাঠকের অভাব থাকবে না। যদি কোন পাঠক এই ধরনের লেখা পড়ে বিভ্রান্ত হয় তবে তবে কি আপনার মত সচেতন ব্যক্তির নিরবতাও কিছুটা দায়ী নয় কি? তার কথার প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমি নিজেও একটি লম্বা মন্তব্যে করেছি। সম্ভব হলে পড়ে দেখুন।
131418
০৬ অক্টোবর ২০১৩ রাত ০১:৫০
তারাচাঁদ লিখেছেন : বাইরে বন্ধু সাজার ভাব ধরে, অন্তরে বিদ্বেষ পোষণ করে এমন অপ্রয়োজনীয় লেখা লিখে কত ব্লগার যে ব্লগ থেকে হারিয়ে গেছে !
০৬ অক্টোবর ২০১৩ দুপুর ০১:৫৫
89573
আহমদ মুসা লিখেছেন : এই ব্লগারের এই পোস্টের তাৎক্ষণিক জবাব দিতে গিয়ে আমি একটি মন্তব্যে করেছি। এখন চিন্তা করছি এই মন্তব্যেটি ব্লগ আকারে পোস্ট করবো। কিছু রেফারেন্স দরকার।
131421
০৬ অক্টোবর ২০১৩ রাত ০২:০৯
মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম লিখেছেন : জামায়াতের পতিষ্ঠাতার ছেলেরা কেহ জামায়াত করে না । আর তারা জামায়াতের বিরোধী । আপনি ইউটিউবে তার ছেলের জামায়াতবিরোধী কথা শুনতে পারবেন । প্রায়ই তার ছেলেরা পাকিস্তানের টিভি চ্যানেলের টক শোতে অংশ নেন এবং জামায়াতের বিরোদ্ধে কথা বলে থাকেন । আপনি পাকিস্তানের টিভি নিয়মিত দেখে থাকলে মাঝে মধ্য তাদের দেখতে পাবেন । http://www.youtube.com/watch?v=u3arxZObKDY এই ভিডিওতে তার এক ছেলেকে দেখতে পাবেন । শুনুন তিনি কি বলেন ?


শিবির নেতার মেয়ে । শিবির নেতাটি সংগ্রামের স্পোটর্স বিষয়ক সাংবাদিক ছিলেন । জামায়াতের বড় নেতার শ্যালক ।

জামায়াতের এক নেতার ছেলের শ্যালিকার পোষাকের অবস্হা । অবশ্য শ্যালিকার পরিবার জামায়াতের সাথে যুক্ত । আমার কথা হলো এই মেয়ের পর্দা করা বেশী প্রয়োজন না মেয়ের বেশী প্রয়োজন । কু আনফুসিকুম আহলিকুম নারা আয়াতটি সম্ভবত তাদের জন্য প্রযোজ্য নয় - তাই তারা মনে করেন ।


অর্ধেক মুখ ঢেকে রেখে চোখ মাঞ্জামারা কতটুকু পর্দা সম্মত । কথায় আছে না চোখ যে মনের কথা বলে ।


শিবির নেতার বোনের পোষাকের অবস্হা । এই পোষাক পড়ে তার বোন আদালত পাড়া ঘুরেছেন । বয়স কম করে হলেও বার । আর ইসলাম কোন পোষাক নির্দিষ্ট করেনি । তাই বলে এমন পোষাক পড়া কতটুকু ইসলাম সম্মত ?
০৬ অক্টোবর ২০১৩ রাত ০২:৫২
89510
চেয়ারম্যান লিখেছেন : আপনে তো নিকাব বিরোধী। চোখ খোলা রেখে মান্জা মারলে হালাল ?
আর মেয়েটির বয়স ১২. আপনাকে কে বলেছে ?
প্রচুর চুলকানির ইমো হবে Tongue Tongue
০৬ অক্টোবর ২০১৩ রাত ০২:৫৩
89511
চেয়ারম্যান লিখেছেন : আপনে তো নিকাব বিরোধী। চোখ মুখ খোলা রেখে মান্জা মারলে হালাল ?
আর মেয়েটির বয়স ১২. আপনাকে কে বলেছে ?
প্রচুর চুলকানির ইমো হবে Tongue Tongue
০৬ অক্টোবর ২০১৩ রাত ০৪:১৫
89513
এলিট লিখেছেন : এক দিক থেকে না পারলে আর এক দিক থেকে আক্রমন। জামায়াত-শিবির মানেই ইসলাম নয়। এটি ইসলামিক একটি দল মাত্র। বিশ্বের কথা বাদ দিলাম - বাংলাদেশেই ৩০টিরও বেশী ছোট বড় ইসলামিক দল রয়েছে যার মাত্র কয়েকটি আমরা চিনি। জামায়াত আল্লাহ প্রদত্ত কোন ব্যাবস্থা নয় যে সবাইকে এটা করতে হবে। মওদুদীর ছেলেকে যে জামায়াত করতেই হবে এমন কোন কথা নেই।
অন্যান্য দলের মতন, জামায়াত-শিবিরের নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে তো চাদাবাজি, দুর্নীতি, ধর্ষন ইত্যাদীর অভিযোগ নেই। যা অভিযোগ রয়েছে তা হলো সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের। যদিও কোন মিডিয়া ওদের হাতে কোন অস্ত্র দেখাতে পারেনি। অন্য দলের অস্ত্রসহ অনেক ছবি মিডিয়াতে দেখা গেছে।
এখন শুরু হয়েছে জামায়াত-শিবিরের কার বোন কি পোষাক পড়ে এই নিয়ে আলোচনা। ১২ বছরের মেয়েকে বোরখা না পড়ানোতে দোষ হয়ে গেছে। আবার বোরখা পড়ালে এটাও শোনা যেত "কি সাঙ্ঘাতিক, এত ছোট মেয়েকে বোরখা পড়িয়েছে, নারীর কোন স্বাধীনতা নেই"। জামায়াত-শিবিরের কোন নেতা-কর্মীর বোন শুধু চোখ খোলা রেখে অপরাধ করে ফেলেছে। ওদিকে অন্য দলের নেতা-কর্মীদের বোনেরা বুকের খাজ দেখিয়ে রাস্তায় চলে অপরাধ করতে পারল না।
সর্বশেষেঃ আপনার ছবিতে ১২ বছরের মেয়ে বোরখা পড়েনি সেটা বেশ দেখেছেন। তার পাশের ছবিতে যে তার ভাই যাকে পুলিশ মারতে মারতে পঙ্গু করে ফেলেছে সেটা দেখেননি? তার বিরুদ্ধে ৮৯টি মামলা দেওয়া হয়েছে। দেশের কোন সেরা সন্ত্রাসীর নামেও এতগুলো মামলা নেই। সে কি দেশের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী? দেশের দ্বিতীয় সেরা সন্ত্রাসী কে জানেন? আমার দেশের মাহামুদুর রহমান। তার বিরুদ্ধে ৭৪টি মামলা দেওয়া হয়েছে। এগুলো চোখে পড়ে না। কোথায় কার বোন কি পোষাক পড়েছে সেটাই খালি চোখে পড়ে।
০৬ অক্টোবর ২০১৩ রাত ০৯:১৬
89671
মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম লিখেছেন : চেয়ারম্যান : আমি নিকাব পড়ার আদোই প্রয়োজন নেই বলে মনে করি এবং এটাও মনে করি , নিকাব পড়া আইন করে বন্ধ করা দরকার ।

আমি আমার অনেক লেখায় চোখ মাঞ্জা মারা (মাসকারা দেওয়া এবং কাজল দিয়ে চোখকে আকর্ষণীয় করা বা অতিরীক্ষ ভুরু যুক্ত করে চোখের আয়তন বাড়ানো ) - দুষণীয় বলে প্রমাণ করেছি । কারণ বিষয়টি হাদিসের নীতিমালা বিরোধী । অথচ এই কাজটা বেশী করে কথিত নিকাবী ও বোরকাওয়ালীরা ।


মেয়ের বয়স ১২ এটা বোঝার জন্য আমি আমার অভিজ্ঞতা ব্যবহার করেছি । কারণ কোন মেয়ে যখন বয়প্রাপ্তা হয় - তখন খুব দ্রুত তার উচ্চতা বাড়তে থাকে । ক্লাস ফোর হতে ক্লাস সিক্সের মেয়েদের এভাবে দ্রুত উচ্চতা বাড়ে । উচ্চতায় তখন তারা তাদের মায়ের সমান হয়ে যায় । আর এটা বোঝার জন্য আপনি শিশু মনোবিজ্ঞানের যে কোন বই বা মনোবিজ্ঞানী ও মনরোগ বিশেষজ্ঞ ডা। এম এ জলিলের লেখা মেয়েদের একান্ত কথা বইটা পড়তে পারেন । এই বই যদিও মেয়েদের শরীরিক পরিবর্তন ও মানষিক সমস্যা নিয়ে লেখা তথাপি এই বই ছেলেদেরও পড়া উচিত । কারণ ছেলেদের তত্ত্বাবধানে অনেক মেয়ে থাকে , যেমন : স্ত্রী, কন্যা, বোন, মা .,,,,, ইত্যাদি । এসব বই পড়লে যে কোন ছেলে তাদের শারীরিক ও মাণষিক সমস্যা বুঝতে পারবে এবং তাদের যত্ম নিতে বা সাহায্য করতে পারবে ।
০৭ অক্টোবর ২০১৩ দুপুর ০১:৫৯
89813
মু নূরনবী লিখেছেন : এখন লাঞ্চে যাব....প্রচুর বিনোদনের কারণে হাসলাম...এবং পেট কিছুটা খালি হয়েছে..ভাল খাওয়া যাবে...

এসব আবাল যে নিজেরে কি মনে করে..///
131438
০৬ অক্টোবর ২০১৩ সকাল ০৫:৪৮
শেখের পোলা লিখেছেন : এ বিরোধের মিমাংসা আল্লাহ কেয়ামতের দিন করে দেবেন৷ আপাততঃ নিজেদের মধ্যে কাদা ছোঁড়া ছুঁড়ি বন্ধ করুন৷ ঐক্যের কথা বলুন ও সেই পথে চলুন৷
131439
০৬ অক্টোবর ২০১৩ সকাল ০৫:৫০
এম_আহমদ লিখেছেন :
কৈফিয়ত: আমি জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরের ভাইদের কোনরুপ হেয় বা খাটো করার উদ্দেশে মাওলানা মওদুদীর উক্তিগুলো এখানে তুলে ধরিনি। আমি জানি, তারা এগুলো সম্পর্কে কমই জানেন অথবা তাদের জানতে দেওয়া হয়না।

কৈফিয়ত দিয়ে কৈফিয়তের উল্টোটাই করলেন। জামাতের লোকজন মাওদূদীর লেখা সম্পর্কে জানে না এবং তাদেরকে ‘জানতে দেয়া হয় না’, আপনি সবকিছু জানেন। আপনাদের কাজই হচ্ছে বিভিন্ন অজুহাতে ফিতনা চালিয়ে যাওয়া। ঈমান আকিদা আপনারা বুঝেন, আর কেউ বুঝে না। তাই, একটা উপায় পেলেই সেই ফিতনা চালু করা হয়। এখানে যান এবং গিয়ে "উদ্ধৃতিগুলো" পড়ে আসুন। ওগুলো মাওদূদীর নয়, দেওবন্দী আলেমদের। অন্য প্রেক্ষিতে সেই একই জিনিস এখানে দেখুন। তারপর উদ্ধৃতি-সংস্কৃতি বুঝার চেষ্টা করুন।
একজন লেখকের লেখার মর্মার্থ তার গোটা বইয়ে, তার অধ্যায়ে অধ্যায়ে, তার প্যারাগ্রাফে প্যারাগ্রাফে বিস্তৃত থাকে। ফেতনাবাজরা তাদের নিজেদের ইতরামী প্রকৃতির কারণে ও মূর্খতাবশত মূল লেখার ধারা থেকে কেটে বাক্য ও বাক্যা এনে তাদের নিজেদের মানসিক বিকৃতির পরিচয় দেয়, যে উদাহরণ দেওবন্দী ওলামাদের ব্যাপারে উল্লেখিত উদ্ধৃতি করা হয়েছে এবং মাওদূদীর উদ্ধৃতিতে এবং উভয় ক্ষেত্রে এসব উদ্ধৃতি পাঠকরা হচ্ছে মুর্খ।
মাওদূদীর যে যে বই থেকে এই উদ্ধৃতিগুলো নেয়া হয়েছে, সেই বইগুলো কি আপনি দেখেছেন, পড়েছেন? সেই বঈয়ের বিষয়বস্তু আলোচনা করতে পারবেন?
লেখকের বই, তার বইয়ের মুল উপপাদ্য, তার অধ্যায়, তার প্যারাগ্রাফ ইত্যাদি থেকে কেটে ছেঁটে বাক্য এনে অনেক কিছু করা যায় যা ফাসেক ফাজেররা করে। কোরান থেকে এবং হাদিস থেকেও বাক্য কেটে-ছেঁটে অনেক কিছু করা যায় যা কাফির এবং মুনাফিকগণ করে। আপনারা হচ্ছেন ফেতনার সংস্কৃতির লোক। আপনারা নিজেদের জাতিতে ঐক্য গড়ে ওঠতে দেবেন না। কিন্তু ব্যাপার হচ্ছে আপনারা কারা, সেটাই জটিল বিষয়। নাস্তিক ও কাফিরগণ আজকার মুসলমান সেজে ব্লগে ব্লগে গিয়ে কত ফিতনা ছড়াচ্ছে। নাম দেখে বুঝা মুস্কিল কার অবস্থান কি।
131508
০৬ অক্টোবর ২০১৩ দুপুর ০১:৩৬
আহমদ মুসা লিখেছেন : সস্তা আবেগ ঝেড়ে লাভ নেই। কোন কিছুর প্রতি অন্ধ বিদ্বেশী না হয়ে যদি হেডাম ও যোগ্যতা থাকে তবে ইসলামী জীবন বিধানের মূল সোর্স পবিত্র কোরআন-সুন্নাহর আলোকে এবং আইম্মায়ে মুজতাহিদ্দিনের ইজতিহাদকৃত মতামতের রেফারেন্স দিয়ে আলোচনায় আসুন। তখন বুঝা যাবে কোরআন সুন্নাহ সম্পর্কে আপনার জ্ঞানের বহর। স্বর্ণ যুগের মুহাদ্দিসীনে কেরাম এবং ঐতিহাসিক মুফাসসির গনের গবেষণা লব্ধ তাফসীরের রেফান্সের আলোকে আলোচনা করুন। তখন বুঝা যাবে আপনি কয়জন মুহাদ্দিসকে চিনেন, কি পরিমান মাহারত আছে আপনার মধ্যে উলুমুল হাদিস, উসুলুল হাদিস এবং উসুলুল তাফসির সম্পর্কে, যুগ শ্রেষ্ট মুফাসসির কয়জনকে জানেন। ফুকাহায়ে কেরামের মতামতসহ উদৃতি দিন আপনার কথার সমর্থনে। তখন বুঝা যাবে উসুল ফিকহা এবং ফিকহা সম্পর্কে আপনার পান্ডিত্য কতটুকু। সাইয়েদ আবুল আলা মাওদুদী কোন ফেরেস্তা নয়। নয় কোন নবী রাসুলও। বিগত শতাব্দির গোটা পৃথিবীর মানব জাতির জন্য অন্যতম শ্রেষ্ট একজন চিন্তা নায়ক তিনি। তার চিন্তালব্ধ গবেষণা ইসলামের মূল সোর্স নিয়ে। তিনিও একজন মানুষ। তার চিন্তাতে থাকতে পারে ভূল বা গলদ। তিনি নিজেও বলেছিলেন- আমার কথাকে গুরুত্ব দেয়ার দরকার নেই। গুরুত্ব দিতে হবে পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহকে। সাইয়েদ মওদুদীর সাহিত্যে বা তার কর্মজীবন নিয়ে গলদ ধরার জন্য আপনার যোগ্যতা অর্জন করা উচিত। জাতায়াত শিবির বা অন্যকোন হকপন্থী ইসলামী দলকে কটাক্ক করার আগে নিজে ইসলাম সম্পর্কে জানার চেষ্টা করুন।
মাঝে মধ্যে আপনি জামায়াত শিবিরের বিরোধীতা করতে গিয়ে এবং তাদের দোষ খুজতে গিয়ে সব লেজে গোবরে করে ফেলেন। কোন প্রেক্টিসিং মুসলিম বা সুসংগঠিত মুসলিম গোষ্টীর সমালোচনা করার জন্য আগে নিজেই ইসলাম সম্পর্কে জানা উচিত। নিজে ইসলাম সম্পর্কে কিছু না জানলে আপনার অবস্থা তেমনই হবে যে, নোটিস বোর্ডের লিখিত বাক্যের সহজ সরল অর্থ না বুঝার কারণে বোর্ডের নিচেই পশ্রাব করে দিলেন। আর তখনই আপনাকে জরিমানার টাকা গুণতে হলো।
একান্ত ইসলামের প্রতি যদি দরদী হন, আল্লাহর ভয় যদি থাকে, পরকালের ভয় যদি থাকে, পরকালে আপনার প্রতিটি কথার জবাবদিহিতার অনুভুতি যদি আপনার মধ্যে থাকে তবে আপনার প্রতি অনুরোধ থাকবে যেসব রেফারেন্স আপনি দিয়েছেন তা সংগ্রহ করে মূল পান্ডুলিপি অন্তত একবার পড়ুন। যদি অন্তরে কোন বক্রতা না থাকে তবে অনেক তথ্যই বিকৃত অসত্য হিসেবে প্রমাণ পাবেন। জামায়াতের সমালোচনা করেন বেশ ভাল কথা। গঠনমূলক সমালোচনা করুন, তাদের কাজেকর্মে যদি আপনার দৃষ্টিতে দ্বীনের বিচ্যুতি গোচরিভুত হয় তবে যুক্তি এবং প্রমাণ দিয়ে তুলে ধরুণ। কিন্তু তাদের প্রতি অন্ধ বিদ্বেষবশত যদি বল্গাহীন মিথ্যাচারে মেতে উঠেন তা সহজেই ধরা পড়বে সচেতন মানুষের কাছে। যদি আপনি এদেশের ইসলামী আন্দোলনের প্রতি এতোই শুভাকাংখি ও ইসলামের প্রতি দরদী ও সঠিক ইসলামের সোল এজেন্ট মনে করেন তবে চেষ্টা করে দেখুন এদেশের জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার সর্বোত্তম কোন দল বা গ্রুফ ধার করানোর।
বিগত শতাব্দির মুজতাহিদদের ব্যাপারে মন্তব্যে করার নিজের পড়নের কাপড় চোপড় ঠিক আছে কিনা একবার চেক করে দেখুন। অন্তত একবার চিন্তা করে দেখুন তো দৈনন্দিন প্রেক্টিসের ইসলামী নিয়ম কানুনের প্রাথমিক নিয়ম কানুনগুলো আপনার ভালভাবে জানা আছে কিনা। নিজেকে পন্ডিত হিসেবে জাহির করার জন্য মহা মনিষিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা কুৎসা রটনা করলেই মনের ঝাল মিঠাতে পারবেন। এসব কারবার তসলিমা নাসরিনরা করে অল্পতেই বিখ্যাত হয়ে গেছে। যদিও এসব বিভ্রান্ত বিপদগামীদের স্ব স্ব ক্ষেত্রে তেমন যোগ্যতা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। তবে ইসলামের বিরুধীতা করেই বাজিমাৎ করেছে। কিন্তু যদি আপনি পরকালে বিশ্বাস করেন, আল্লাহর রুবুয়িতে বিশ্বাস করেন, মুহাম্মাদ (সাHappy এর রেসালতে বিশ্বাস করেন তবে একবার চিন্তা করে দেখুন আপনার এসব মিথ্যাচারের পরিনাম কি হতে পারে? ইসলামপন্থীদের আচার আচারণ রাজনৈতিক কলা কৌশলের ভিতরের অন্তর্ণিহিত রহস্য অনুসন্ধান তারাই করতে পারবে যাদের মধ্যে যোগ্যতা আছে। হয়তো আপাতত দৃষ্টিতে বাহ্যিকভাবে খারাপ লাগতে পারে কোন মতলববাজ স্বার্থান্নেশী মহলের মিথ্যা অপপ্রসারে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এসব অপপ্রচার প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের সুক্ষ্ম কৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়।
০৬ অক্টোবর ২০১৩ বিকাল ০৫:৪৪
89625
আবরার লিখেছেন : আহমদ মুসা ভাই , ঠিক বলেছেন । গোলাম মাওলা -ফখরুল ইসলাম এই ব্যাপারে গুরু দায়িত্ব নিয়েছেন । তাদের সফলতা দেখতে চাই ।
০৬ অক্টোবর ২০১৩ বিকাল ০৫:৪৪
89627
আবরার লিখেছেন : আহমদ মুসা ভাই , ঠিক বলেছেন । গোলাম মাওলা -ফখরুল ইসলাম এই ব্যাপারে গুরু দায়িত্ব নিয়েছেন । তাদের সফলতা দেখতে চাই ।
131662
০৬ অক্টোবর ২০১৩ রাত ০৯:০৭
মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম লিখেছেন : @ এলিট : আপনি বলেছেন : মওদুদীর ছেলেকে যে জামায়াত করতেই হবে এমন কোন কথা নেই।
আমার অভিমত : আগের নিজের ঘরে বাতি দিয়ে মসজিদে বাতি দিতে হয় । আন কু আনফুসিকুম আহলিকুম নারা , তোমারা নিজেদের জাহান্নামের আগুন হতে বাচ এবং তোমাদের পরিবার পরিজনদেরও বাচাও - এটা কুরআনের আয়াত । যারা জামায়াত করলে আল্লাহর সন্তুষ্টি হয় এবং জান্নাতে যাওয়ার উছিলা মনে করে - তারা কুরআনের এই আয়াত তাদের জন্য প্রযোজ্য হবে না কেন - তা কারো বিবেকই মেনে নিবে না । বাংলাদেশেও জামায়াতে ইসলামীর প্রায় বড় নেতার ছেলেরা শিবির করে না । আর মেয়েরা বিন্দুমাত্র পর্দা করে না । আর পর্দা করা মানে এই নয় বোরকা এবং নিকাব পড়তে হবে ।

জামায়াত নেতাদের বিরোদ্ধে চাদাবাজি বা অন্যান্য অভিযোগ থাকবে না এটাই সাভাবিক । কারণ এই দল ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে এমন দল নয় । অপর দিকে বিএনপি - আওয়ামী লীগ এমন দল । লোকেরা ক্ষমতার মধু আর ধন-সম্পদ লাভের জন্য পর্যায়ক্রমে এই দুই দলের নেতা-কর্মী সেজে থাকে ।

আপনি বলেছেন :

এখন শুরু হয়েছে জামায়াত-শিবিরের কার বোন কি পোষাক পড়ে এই নিয়ে আলোচনা। ১২ বছরের মেয়েকে বোরখা না পড়ানোতে দোষ হয়ে গেছে। আবার বোরখা পড়ালে এটাও শোনা যেত "কি সাঙ্ঘাতিক, এত ছোট মেয়েকে বোরখা পড়িয়েছে, নারীর কোন স্বাধীনতা নেই"। জামায়াত-শিবিরের কোন নেতা-কর্মীর বোন শুধু চোখ খোলা রেখে অপরাধ করে ফেলেছে। ওদিকে অন্য দলের নেতা-কর্মীদের বোনেরা বুকের খাজ দেখিয়ে রাস্তায় চলে অপরাধ করতে পারল না।
সর্বশেষেঃ আপনার ছবিতে ১২ বছরের মেয়ে বোরখা পড়েনি সেটা বেশ দেখেছেন।

আমার অভিমত : আমি আমার কোন লেখায় বোরকা আর নিকাব পড়ে পর্দা করতে হবে এমন কথা বলি না । আমি কাউকে বোরকা ও নিকাব পড়ার কথা বলিও না । কারণ এই দুইটাই আমাদের দেশের সংস্কৃতি নয় । আমি যে ধরনের পোষাক মেয়েদের পড়তে বলি তা এই পেজ দুইটায় ধারণা দেওয়া আছে । দেখতে পারেন :


আপনিই বলুন : তারা যেসব পোষক পড়েছেন সেসব পোষাক কতটুকু শালীন ।

বাংলাদেশের আবহাওয়ায় একটা মেয়ে ৯ বছর হলেই বয়প্রাপ্তা হয়ে যায় । বয়প্রাপ্হ হলে প্রতিটা মেয়েকেই ইসলামী নীতিমালা মেনেই যথাযথভাবে পোষাক পড়তে হবে ।

এই কথা সব দল-মত-পথের পরিবারের মেয়েদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য , যদি তারা নিজেদের মুসলিম দাবি করে থাকেন ।

আপনি লিখেছেন :

তার পাশের ছবিতে যে তার ভাই যাকে পুলিশ মারতে মারতে পঙ্গু করে ফেলেছে সেটা দেখেননি? তার বিরুদ্ধে ৮৯টি মামলা দেওয়া হয়েছে। দেশের কোন সেরা সন্ত্রাসীর নামেও এতগুলো মামলা নেই। সে কি দেশের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী? দেশের দ্বিতীয় সেরা সন্ত্রাসী কে জানেন? আমার দেশের মাহামুদুর রহমান। তার বিরুদ্ধে ৭৪টি মামলা দেওয়া হয়েছে। এগুলো চোখে পড়ে না। কোথায় কার বোন কি পোষাক পড়েছে সেটাই খালি চোখে পড়ে।

আমার অভিমত : এসব বিষয় আমাদের মতো, সাধারণ লোকদের কাছে বিবেচ্য নয়। কারণ আমাদের কাছে আমাদের খাওয়া পড়ার চিন্তাটাই বড় । আমি মনে করি তিনি মানবতাবিরোধী-গণবিরোধী-গনধিকৃত নেতাদের পক্ষে অবস্হান নিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করার জন্য তার এই অবস্হা হয়েছে । সত্যিকার ইসলাম কায়েম করার জন্য তার এই অবস্হা হয়নি । আর তিনি সত্যিকার ইসলাম কায়েম করার আন্দোলন করলেই তার দলকে দেশের সব লোক না হলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লোক ভালবাসতো ।
০৭ অক্টোবর ২০১৩ দুপুর ০৩:৫৩
89825
মোঃ ওহিদুল ইসলাম লিখেছেন : মওদুদীর (রহঃ)এক ছেলে ব্যতীত (ফারুক হায়দার, যে বামপন্থী নাস্তিকদের আমন্ত্রণে বাংলাদেশ এ এসে বুলি আওড়াচ্ছে) সকলেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। এটা হতেই পারে। হযরত নূহ (আঃ) এর ছেলে কাফের ছিল। হযরত মূসা (আঃ) ফেরাউন এর রাজদরকারে লালিত হয়েছিলেন। আলেম এর ঘরেও আল্লাহ পাক অনেক সময় জালিম পয়দা করেন। আর সেই ফারুক হায়দার নাস্তিকদের প্রতিনিধিত্ব করে, সেটা নাস্তিক রাম বামদের সাথে তাঁর উঠাবসা দেখলেই বুঝা যায়।
১০
131725
০৭ অক্টোবর ২০১৩ রাত ০১:৪৩
এলিট লিখেছেন : আপনার মুল্যবান অভিমতের জন্য ধন্যবাদ।
আগের মন্তব্য লেখার সময় আমার ধারনা ছিল সে আপনি ভুল বুঝছেন।
এবার বোঝা গেল যে আপনার বুঝ একেবারে ষোল আনা রয়েছে। সমস্যা শুধু একটাই, জামায়াতে এলার্জি রয়েছে।
জামায়াত মানেই সঠিক ইসলাম নয়। এটি একটি রাজনৈতিক দল মাত্র। এটা পছন্দ-অপছন্দ করা একজনের ব্যাক্তিগত ব্যাপার।
এই দলের ত্রুটি ধরতে চাইলে এই দল কি করে সেটা দেখে ত্রুটি ধরুন।
দলের প্রতিস্টাতা নেতার ছেলে দল পছন্দ করেনা। এটা কি কোন দল বিচার করার মাপকাঠি? ওই ছেলেটি কি আপনার গুরু যে সে অপছন্দ করলে আপনিও করবেন? আপনি অপছন্দ করলে নিজের মতে করুন। নিজে খুজে বের করুন জামায়াত কি কি অপকর্ম করে। এরপরে তাদের অপকর্মগুলিকে অন্য দলের অপকর্মগুলির সাথে তুলনা করে দেখবেন। একইভাবে কোন জামাতের নেতার বোন বা মেয়ে কি পোষাক পড়ে এটাও ওই দল বিচারের মাপকাঠি নয়। বিচার করুন ওই নেতা কি করে। আর একটা কথা, মওদুদীর ৯ জন ছেলে মেয়ের মধ্যে ৮ জন কেউ কখনো জামায়াতের বিরোধীতা করেনি। এদের একজন জামায়াতের নেতা (রোকন)। ৯ জনের মধ্যে ১ জনের বিরোধীতা কি হিসাবের মধ্যে পড়ে?
দেখেছেন তো আমাদের দুই নেত্রির ছেলেরা কিভাবে কয়েক দিনের মধ্যেই দলের বড় নেতা হয়ে গেছে? জামায়াতে এমন হয় না। নেতার ছেলে নেতা তো দুরের কথা কর্মীও হতে পারে না, যদি দলের নীতিমালা পুরন না করে। আর এই কঠিন নীতিমালা কয়েক বছর ধরে পুরন করে ওই দলে যোগ দিতে অনেকেই আগ্রহী হয় না। এর ফলে অনেক জামায়াত নেতার ছেলেরা জামায়াতে নেই।
সবশেষেঃ জামায়াতের নেতা-কর্মীরা কি কুকর্ম করে সেগুলো বলে দলটির বদনাম করুন । তখন আমিও আপনার সাথে কন্ঠ মিলিয়ে জামাতের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করব। যেমন অন্যান্য দলের বিরুদ্ধে করি। জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ছেলে মেয়ে ভাই বোন আত্মীয়, এরা কে কি বলে বা করে তা দিয়ে ওই দলের বিচার করা হাস্যকর।
০৭ অক্টোবর ২০১৩ দুপুর ১২:২২
89781
আহমদ মুসা লিখেছেন :
নেতার ছেলে নেতা তো দুরের কথা কর্মীও হতে পারে না, যদি দলের নীতিমালা পুরন না করে। আর এই কঠিন নীতিমালা কয়েক বছর ধরে পুরন করে ওই দলে যোগ দিতে অনেকেই আগ্রহী হয় না। এর ফলে অনেক জামায়াত নেতার ছেলেরা জামায়াতে নেই।

মুহতারাম আপনার এই কথাটির সাথে আমি একটি সম্পূরক কথা যুক্ত করার চেষ্টা করছি।-
জামায়াতে ইসলামীর একজন শপথের কর্মী হওয়ার জন্য তাকে প্রথম শর্তই হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ মুসলমান হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করা। পূর্ণাঙ্গ মুসলমান হওয়ার জন্য বা সেই মানে উত্বীর্ণ হতে অবিরথ চেষ্টার জন্য যে সাংঘঠনিক কাঠামো রয়েছে তা আসহাবে রাসুলদের জীবনাচারের আলোকে সিস্টেম তৈরী করেছেন। এই সিস্টেম অনুযায়ী যদি একজন মানুষ তার জীবনকে গড়ে তুলে তবে তার মধ্যে আশরাফুল মাখলুকাতের যাবতীয় গুনাবলী সম্পন্ন মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। যদি সে ব্যক্তি একজন অমুসলিমও হয় তার পরেও নির্দিধায় বলা যেতে পারে জামায়াতের সাংঘঠনিক সিস্টেমের আলোকে জীবনকে গড়ে তুলতে পারলে পারলৌকিক জীবনের কথা বাদ দিলাম। ইহলৌকিক জীবনে একজন আদর্শবান মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।

আর এই কঠিন নীতিমালা কয়েক বছর ধরে পুরন করে ওই দলে যোগ দিতে অনেকেই আগ্রহী হয় না।

আসল ব্যাপার হচ্ছে আগ্রহী হওয়ার জন্য অগনিত মানুষ আছে। কিন্তু সেই মানে উত্ত্বীর্ণ হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয় অনেকেই। একারণেই জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে নেতার ছেলে নেতা হওয়ার নজীর দেখা যায় না। যার মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলীর পাশাপাশি ঈমান আমলে খুলুসিয়াতের পূণার্ঙ্গতা যত বেশী সেই ব্যক্তিই জামায়াতের নেতৃত্বের আসনে দেখা যায়। হয়তো এ কারণেই সাইয়েদ আবুল আলা মাওদুদীর বিভ্রান্ত সন্তান ফারুক হায়দার মওদুদী জামায়াতে ইসলামীর নেতা তো পরের কথা একজন সাধারণ কর্মী হওয়ার যোগ্যতাও রাখেন না।
কোন অযোগ্য অপদার্থ ব্যক্তি যে জিনিস পায়না তখন সে না পাওয়ার বেদনায় তার অন্ধ বিরুদ্ধাচারণ করে বেড়ায় দ্বীনি ইলম থেকে বঞ্চিত থাকার কারণে। ফারুক হায়দার মওদুদীও সেরকম একজন বিভ্রান্ত মানুষ।
১১
131737
০৭ অক্টোবর ২০১৩ রাত ০৩:২৬
নাবীল লিখেছেন : অনেকে দেখতেছি বল্গে লেখার সুবাদে মানুষের বাসায় দারোয়ানি ও করে তা নাহলে বাসায় কোন মেয়ে তার মার সাথে ছবি উঠাইছে তাও দিয়ে বদনামি রটাইতেছে।আদালতে যে ছোট মেয়েটাকে বলছে ১২ বছরের আপনি কি আদালতে ছিলেন না আপনার চোখে সমস্যা আছে ।সমস্যা থাকলে চোখ অপারেশন করান তাহলে সত্য কে ভাল ভাবে দেখবেন।
১২
131738
০৭ অক্টোবর ২০১৩ সকাল ০৫:৫০
আবদুল কাদের হেলাল লিখেছেন : মুওদূদীর বিরুদ্দে সমালোচনার প্রকৃত কারনঃ আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে মওদূদীর বিরুদ্ধে যারা ফেসবুকে বা বিভিন্ন ব্লগে আইডি ওপেন করে নিজেদের মুরব্বিদের লিখিত কিছু ফতোয়া বা বিরোধীতা মুলক বই কপি পেষ্ট করছেন, তারা কি সমালোচনার কোরআন এবং সুন্নাহ সম্মত নীতি মালা অনুসরন করেছেন, এই প্রশ্নটি অতি যত্নের সাথে ভেবে দেখার অনুরোধ থাকবে। মাওলানা মওদূদীর বিরুদ্ধে যারা অভিযোগ আনেন তারা মুলত দেওবন্দের কংগ্রেস সমর্থক এক দল ওলামা এবং তাদের কিছু খলিফা। দেওবন্দের ওলামাদের বিরোধীতার না হয় ব্যক্তিগত কারণ ছিল, কিন্তু অন্যান্য ওলামা বা খলিফারা যারা এখনো মওদূদীর কোন বই পড়ার সুযোগ পাননি, তারা কোন স্বার্থ্যে মওদূদীর বইর বিরুদ্ধে ফতোয়ার কিতাব লিখলেন। চরমোনাইর পীর সাহেব কে আমদের মাহফিলের কমিটির পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হলো মওদূদীর কোন বই পুস্তক তিনি পড়েছিলেন কিনা। মরহুম পীর সাহেব তিন বার আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ে বললেন, আল্লাহ আমার হুশ রাখতে যেন এরূপ পাপ না করায়। দেখুন কত মস্ত বড় মিথ্যাচার। যিনি মওদূদীর কোন বই পড়াকে বিরাট গুনাহ মনে করেন তিনি কি করে জামায়াত বা মওদূদীর বিরুদ্ধে ফতোয়া দেন আমি বুঝতে পারিনা। এগুলো যে, মুখলেস কোন মুসলমানের কোন চিত্র নয় তা প্রমান করার জন্য আমি একটি বাস্তব ঘটনা খুলে বলি। হটাৎ করে সারা বাংলাদেশে আশেকে রাসুল নামে দেওয়ানবাগীর কর্মীরা বিরাট বিরাট মাহফিল বা জলশা করে লোকজনকে বিরিয়ানী খাওয়াচ্ছিল। তাদের আকীদা বিশ্বাস এবং কর্ম কান্ড সম্পর্কে হক্কানী ওলামারা ব্যাপক প্রতিক্রিয়া জানালেন। সেই সময় আমাদের স্কুল মাঠের ঐতিহাসিক মাহফিলে ওয়াজ করার জন্য তাশরিফ নিয়ে এসেছিলেন মাওলানা মুফতি ফয়জুল্লাহ রহ। তিনি তখন হাট হাজারীতে কর্মরত ছিলেন। তিনি সেদিন এক অক্ষর বয়ানও করেননি। শুধুমাত্র দুই রাকাত নামাজ মাহফিলের স্টেজে আদায় করে প্রতিটি রোকন বিভিন্ন কিতাবের হাওলা দিয়ে দেখিয়ে দেন। সাথে সাথে তিনি এখতেলাফের জায়গুলোতেও নিজস্ব মতামত প্রদান করেন। তার নামাজ দেখার পরে গোটা মাঠে হৈ চৈ পড়ে গেল। সাধারন লোকজন বিভিন্ন প্রশ্ন করার জন্য হাত উঠালো। এন্তেজামীয়া কমিটির অনুরোধে তিনি কয়েক জনের প্রশ্নের জবাব দিতে সম্মত হলেন। উপস্থিত শ্রোতাদের মধ্য থেকে একজন প্রশ্ন করলেন যে, আপনি যেভাবে নামাজ আদায় করলেন, এটা যদি সত্যিকারের নামাজ হয়, তাহলে আমাদের মসজিদের ইমাম সহ বিভিন্ন মসজিদের ইমামের নামাজ সহিহ হয়না। এ ক্ষেত্রে আমরা কি করব ? আমরা কি ইমাম পাল্টাবো। তিনি সরাসরি সত্য স্বিকার করে নিয়ে বললেন যে, এটা সত্য কথা যে, মাদ্রাসা থেকে ফারেগ হওয়া পঞ্চাশ জন ছাত্রের প্রত্যেকের নামাজের ধরন আলাদা হয়, কারণ হচ্ছে নামাজকে গুরুত্ব্যে দিক থেকে তার জায়গা থেকে সরিয়ে দেয়া। আপনাদের কাজ হবে নিজেদের নামাজ সহিহ করা এবং যে সকল ইমাম অশুদ্ধ নামাজ আদায় করেন তাদের কাছে আমার এই কথা গুলো তুলে ধরা। হয়তো তারাও তাদের নামাজে সহিহ নিয়ম অনুসরন করবেন। এসব প্রশ্নের ফাকে এক শ্রোতা প্রশ্ন করেন যে, দেওয়ানবাগের বিরুদ্ধে কিছু আলেম প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যে তারা কুফরি কথা বার্তা বলছেন, আপনি তাদের ব্যাপারে আমাদের কে কিছু বলূন। এমন প্রশ্নের জবাবে কোন প্রকার ভনিতা না করে তিনি উত্তর দিলেন যে, যদিও আমি কিছু ওলামার কথা মুখে মুখে শুনেছি এবং দেওয়ানবাগের বিরুদ্ধে লিখিত লিফলেট পড়েছি, কিন্তু তাদের কথা বার্তা সরাসরি শুনা এবং তাদের বই বা পত্রিকা থেকে না পড়া পর্যন্ত কোন ধরনে মন্তব্য করা আমার জন্য জায়েজ হবে না। আপনারা এমন কোন আলেমের কাছ থেকে ফতোয়া নিতে পারেন যিনি দেওয়ানবাগের সব বই পুস্তক নিয়ে গবেষনা করেছেণ। ভবিষ্যতে আসতে পারলে আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবো। সেদিনের পর থেকে এই বেসুরা ওয়ায়েজিন আমার হৃদয়ের কোনায় সম্মানের স্থান করে নিয়েছিলেন। দেখুনতো এমন তাকওয়ার কোন লক্ষন বর্তমান যুগের সমালোচকের কাছে খুজে পান কিনা। এ কারনে আমরা দেওবন্দ বা কওমী মাদ্রাসা থেকে ফারেগ হওয়া সকল বন্ধদের কে বিনীত ভাবে বলতে চাই যে, দেওবন্দের কিছু কংগ্রেস পন্থী ওলামারা যদি রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত হিংসার বশে মওদূদীর বিরুদ্ধে ফতোয়া দেওয়ার প্রয়োজন মনে করে, তাহলে তুমি কিসের প্রয়োজনে সে ফতোয়াকে যাচাই বাছাই ছাড়াই প্রচার করছ। দেওবন্দ বা কওমী মাদ্রাসা থেকে দ্বীন শিখার পরিবর্তে যদি মুরব্বি পূজাই শিখে এলে, তবে সেটা কি কোন কল্যাণকর হতে পারে। মাওলানা মওদূদী এমন এক বংশে জন্ম নেন যারা বংশানুক্রমে পীরতন্ত্রের ব্যাবসায় নিয়োজিত ছিল। তাদের গোটা খান্দান মানুষের সামনে দ্বীন ইসলামকে প্রচার প্রশারে নিয়োজীত ছিল। মওদূদীর বাল্য শিক্ষা পারিবারিক কারনেই মাদ্রাসার মাধ্যমে শুরু। সে যুগের শিক্ষা পদ্ধতির একটি স্তর ছিল মৌলভি, যা মেট্রিকুলেশন হিসেবে ধরা হতো। তিনি অত্যান্ত সুনামের সাথে সেই পরীক্ষায় কৃত কার্য হন। শিক্ষা জীবন সম্পর্কে জাহেলদের অভিযোগ হলো মওদূদীর কোন শিক্ষক ছিলনা এবং তিনি কোন মাদ্রাসায় পড়া লেখা করার সুযোগ পাননি। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে মওদূদী মাদ্রাসায় পড়া লেখা করার সময় তার বাবা মারাতœক অসুস্থ হয়ে পড়েন, বাধ্য হয়ে তাকে তার শিক্ষা জীবনের ইতি টানতে হয়। কিন্তু তিনি তার বাবার মৃত্যুর পরে আবার সেই সকল ওস্তাদের কাছে পড়ালেখা করার সুযোগ পান যারা তার পুর্বে থেকেই ওস্তাদ ছিলেন। সেই সময় আরবি শাস্ত্রের যাদের পান্ডিত্য ছিল মওদূদী তাদের কাছেই আরবি ভাষা সম্পর্কে ভুৎপত্তি অর্জন করেন। তাকে আল্লাহ তায়ালা দ্বীনের বুঝ দান করা স্বিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিধায় তার অন্তর জ্ঞানের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়। কোন বিষয়ে একবারের বেশি তার দেখা লাগতো না। দারুন প্রখর ছিল তার স্মৃতি শক্তি। তার সহকর্মী খুররাম মুরাদ বলেন- মাওলানা কোন পাঠাগারে বই অধ্যায়ন করলে তাতে আন্ডার লাইন করে আসতেন এবং বলতেন যেখানে আমি আন্ডার লাইন করব তা আমার সব সময় পৃষ্টা নাম্বার সহ মনে থাকবে। অন্য এক আলোচনায় তিনি বলেছিলেন যে, পাঠাগারের অনেক বই যদি পোকায় খেয়েও ফেলে, তিনি তা পুনরায় লিখে দিতে পারবেন, কেননা তার অন্তরে সব সংরক্ষিত আছে। এমনি প্রতিভা দিয়ে আল্লাহ তায়ালা তাকে তার কাজের জন্য বাছাই করে নেন। এছাড়া তাদের কে জিঞ্জেস করুন, যদি মাওলানা মওদুদী আলেমই না হবেন তাহলে তাকে দেওবন্দের মুখপাত্র, মাসিক ইসলামী পত্রিকার সম্পাদক বানানো হলো কেন। মাওলানা মওদুদী ছিলেন সহজ সরল একজন আলেম সাংবাদিক। তার লেখার স্টাইল এবং যুক্তি প্রমান ও জ্ঞানের গভিরতা সকল আলেম সমাজের লোকের কাছে পৌছে গিয়েছিল। এ কারনে দেওবন্দ মাদ্রাসা থেকে প্রকাশিত, দেওবন্দ ওলামাদের সংগঠন জমিয়তে আল ইসলামের মাসিক মুখপাত্র ‘ আল-জমিয়াত’ প্রত্রিকার সম্পাদক হিসেবে মাওলানাকে নিয়োগ দেয়া হলো। যারা বর্তমানে মওদূদীকে আলেম মানতে নারাজ তাদের কাছে আমার প্রশ্ন হলো, বর্তমান হাটহাজারী থেকে প্রকাশিত মাসিক মুইনুল ইসলামের সম্পাদক কি একজন জাহেল বা আধুনীক শিক্ষিত কে বানানেরা কল্পনাও কেউ করতে পারেন। অথবা বর্তমান আল কাওসার পত্রিকার সম্পাদক কি একজন জাহেল হতে পারেন। তখনকার দেওবন্দ থেকে প্রকাশিত কোন দ্বীনি প্রত্রিকার সম্পাদক কোন আলেম ছিলেন না এমন দাবি যারা করেন তারা মুলত তাদের আকাবারদের কে মুর্খ এবং জাহেল হিসেবে ঘোষনা করছেন। কেননা তারা তো এত মুর্খ ছিলেন যে, শত শত ওলামাদের মুখপাত্র এবং তাদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত প্রত্রিকার সম্পাদক এমন একজন কে বানানো হয়েছিল যিনি আলেম ছিলেন না, সাধারন শিক্ষিত ছিলেন। দেওবন্দ ওলামাদের একমাাত্র সংগঠন জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দের মুখপাত্র আল জমিয়ত পত্রিকার সম্পাদনার ভার পড়ল মাওলান মওদূদীর ওপর। আল জমিয়ত পত্রিকাটি মুলত দেওবন্দ আলেমদের সংগঠন জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দের কর্ম সুচি প্রচার প্রশার করার জন্য ছাপানো হতো। তৎকালিন দেওবন্দের বেশির ভাগ নেতৃত্বস্থানীয় আলেমরা কংগ্রেসের কট্টর সমর্থক ছিলেন এবং জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দ ছিল কংগ্রেসের সহযোগী সংগঠন। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে কংগ্রেসের লেজুর বৃত্তি করাই ছিল এই ওলামা সংগঠনটির একমাত্র কাজ। আজকের বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগের যেই রাজনৈতিক এবং নৈতিক পজিশান, তৎকালিন জমিয়াতে ওলামায়ে হিন্দেরও সেই একই পজিশান ছিল। কংগ্রেসের লেজুর বৃত্তি করাটা যেন জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দের দায়িত্ব্য হয়ে গিয়েছিল। এখনো এই দলটির ইশারায় বাংলাদেশের কিছু ইসলামী দল আলেম ওলামাদের মধ্যে বিভেদ তৈরিতে ভুমিকা রাখছেন। উল্লেখ্য না করলে ভূল হবে যে, তৎকালে কংগ্রেসের নেতৃত্বে ছিলেন মুসলমানদের চরম দুশমন হিসেবে চিহিত মহাতœা গান্দি। গান্ধির অহিংস আন্দোলন ছিল মুসলমানদের জিহাদের বিপরিতে প্রপাগান্ডা মুলক এক চরম বিদ্ধেষ ভাবাপন্ন সাম্প্রদায়িক আন্দোলন, যদিও তা অহিংস শব্দের আড়ালে ডেকে রাখা হয়েছিল। এই আন্দোলন চলাকালে এক মুসলমান কতৃক তাদের এক নেতাকে -যার নাম ছিল শ্রদ্ধানন্দ -হত্যার অপরাধে সারা ভারত জুরে যে দাঙ্গা হয়েছিল তার ভিতর ঘী ঢেলেছিল গান্ধির সেই নিকৃষ্ট উক্তি-” মুসলমানদের ইতিহাস থেকে তলোয়ার আর রক্তের গন্ধ ভেসে আসে।” অবাক করা বিষয় হচ্ছে তখন কিন্ত জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দের দায়িত্বে ছিলেন এমন সব ওলামারা যাদের তাকওয়া আর বুজুর্গীর ডংকা সারা ভারত উপমহাদেশে বাজত। তাদের মধ্যে উল্লেখ্য যোগ্য ছিলেন, মাওলানা আশরাফ আলি থানবি, মুফতি মোহাম্মদ শাফী, মাওলান আহমেদ হুসাইন মাদানী, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, মাওলানা মুফতি ফয়জুল্লাহ রহ সহ দেওবন্দের বিশিষ্ট আলেম গন। জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দের ততকালিন সভাপতি ছিলেন মাওলানা হুসাইন আহমেদ মাদানী এবং সেক্রেটারি হিসেবে ছিলেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। কিন্তু আশ্চর্য্যরে বিষয় হচ্ছে মহাতœা গান্দির এই নিকৃষ্ট উক্তির পরে যখন ব্যাপক হারে মুসলমান হত্যা করা শুরু হলো এবং ইসলামী জিহাদের অপব্যাখ্যা করে জিহাদকে সন্ত্রাস আখ্যা দেওয়া হতে লাগল, তখন এই বুজুর্গদের কারো অন্তরে আল্লাহর দ্বীনের জন্য কোন মায়া লাগেনি এবং তারা কংগ্রেস ত্যাগ করার দরকারও মনে করেননি। কংগ্রেসের সাথে সংযুক্ত থাকা যাদের কাছে বৈধ ছিল, আজকের যুগে তাদের খলিফাদের কাছে নারী নেতৃত্ব্য আরো খারাপ হয়ে গেছে। যদিও হিন্দু নেতার নেতৃত্বে আন্দোলন করতে কোন সমষ্যা হয়নি। মহাতœা গান্ধির কংগ্রেসের পরিচালিত অহিংস আন্দোলন ছিল মুসলমানদের বিরুদ্ধে একটি প্রকাশ্য যুদ্ধ কিন্তু দেওবন্দ কংগ্রেস পন্থি আলেমদের কাছে তা ছিল একেবারে সহনিয় কারন তাদের কাছে দেওবন্দ মাদ্রাসার হেফাজত এবং নিরাপত্তাই মুখ্য ছিল। মুসলমানদের অধিকার বা ইজ্জত তখন প্রধান্য পায়নি। আমাদের বর্তমান মুরব্বিদের কাছে আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে একজন হিন্দুর নেতৃত্বে দল করা বা তার দলের অংগ সহযোগী হয়ে আন্দোলন করার সময় কি এসব ফতোয়া মনে ছিল যা তারা আজকে বলছেণ নারী নেতৃত্বের সাথে জোট বদ্ধ হয়ে স্বৈরাচার হটানোর আন্দোলন নাজায়েজ। জিহাদের বিরুদ্ধে সারা ভারত জুরে যখন এক ধরনে প্রপাগান্ডা চলতে লাগল ঠিক তখনি দিল্লী জামে মসজিদের খতিব তার জুমার খোতবায় আক্ষেপের সুরে বলছিলেন যে, মুসলমানদের মধ্যে এমন কোন নওজোয়ান আল্লাহর সৈনিক কি নেই যে মুশরিকদে এই প্রপাগান্ডার দাঁত ভাংগা জবাব দিতে পারে। মাওলানা মওদূদী বলেন, আমি সেই মসজিদে তখন অবস্থান করছিলাম এবং আমি মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম যে, কেউ করুক আর না করুক আমি এই দায়িত্ব পালন করবো। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাওলানা লিখে ফেললেন তার প্রথম বই- জিহাদ ফিল ইসলাম। মহাতœা গান্ধির প্রচারিত অহিংস আন্দোলন যে ইসলামের শিক্ষার বিপরিত তার দাঁত ভাঙ্গা জবাব ছিল জিহাদ ফিল ইলসলাম। গ্রন্তটি প্রকাশ হওয়াতে দুটো কাজ হলো। প্রথম হচ্ছে মুশরিকদের প্রচারনার প্রকৃত জবাব দেয়া হলো এবং জিহাদ সম্পর্কে সঠিক মাসয়ালা বের হয়ে এলো। পুরো গ্রন্থটি পত্রিকার মাধ্যমে ধারাবাহিক ভাবে প্রচার করা হয়েছিল। অন্যদিকে এই বই রচনা করতে গিয়ে যে মাওলানা মওদূদীকে শত শত কিতাব পড়তে হয়েছিল। এ হিসেবে তার কাছে গোটা ইসলামের চিত্র ফুটে উঠলো। ইসলামকে তিনি নতুন ভাবে জানার সুযোগ পেলেন। তার জ্ঞান রাজ্যের সিমানায় নতুন এক রাজত্ব্য ঠাই করে নিল। তিনি মুগ্ধ হয়ে গেলেন। তিনি তার কলমের ব্যবহার সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন। নিজের বড় ভাইর সাথে পরামর্শ করে বললেন যে, মুসলমানদের সামনে যে মস্তবড় বিপদ আসছে সেই বিপদ থেকে তাদের সাবধান করা জরুরী। যে মহা প্লাবনের সংকেত আমি পাচ্ছি তা থেকে একজন মুসলমানকে যদি হেফাজত করতে পারি তাহলেও আমার প্রচেষ্টা র্স্বাথ্যক হবে। উল্লেখ্য যে, পাকিস্তান আন্দোলন এবং তার পরবির্ত দিনের মুসলমানদের ভবিষ্যত নিযে তিনি যে, আগাম ঘোষনা করেছিলেন তা অক্ষরে অক্ষরে সত্যে পরিণত হয়েছে। আন্দোলনের মুখে পাকিস্তান কায়েম হয়েছে ঠিকই কিন্তু যে ইসলামের নাম নিয়ে তাকে প্রতিষ্টা করা হয়েছিল, সেই ইসলামী রাষ্ট আর ইসলামী বিধান কে খোদ মুসলমানরাই অস্বিকার করে এবং প্রাশ্চাত্যের অনুকরনে একটি সংবিধান কায়েম করা হয়। পাকিস্তানের মধ্যে যে অস্থিরতা আজ বিরাজমান, তা সেদিনের সেই পাপের ফল। এ কারনে মাওলানা মওদূদী সেদিন ঘোষনা করে দেন যে, আজকে থেকে আমার কলম যদি কোন একটি অক্ষরও লেখে তাও আল্লাহর কালাম এবং তার দ্বীনের প্রতিনিধিত্ব করবে। আর তা কেবল আল্লাহর জন্যই হবে। কংগ্রেসের সমস্ত সমর্থকদের কাছে এমন কি কংগ্রেস পন্থী আলেমদের কাছেও মাওলানা মওদূদী অত্যান্ত বিপদ জনক ছিলেন। কারণ তারা দেখেছেন যে, মওদূদীর লেখার স্টাইল প্রমান করছে যে, তিনি তার কলমের কাচি থেকে ইসলামের নামে প্রচলিত জাহেলীয়াতের একটি অংশকেও ছাড় দেবেন না। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে, ইসলামী জিহাদের ওপর এমন প্রামন্য কিতাব মুসলিম জাহানে দ্বিতীয়টি লেখা হয়নি। সেই থেকে শুরু মাওলানার লেখার কাজ। মাওলান নিজে স্বিকার করেছেন যে, উক্ত কিতাবটি লেখার পরে আমি ভিতর থেকে অনুভব করতে লাগলাম যে আল্লাহ হয়তো আমার ভিতর কিছু প্রতিভা দিয়েছেন এবং আমাকে এ কাজ অবশ্যই চালিয়ে যেতে হবে। উক্ত কিতাবটি লেখার পরে মুসলমানদের বিরুদ্ধে মুশরিকদের দেয়া অপবাদ সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে গেল ঠিক কিন্তু তারা অপেক্ষা করছিল মোক্ষম সুযোগের যাতে এর বদল তারা নিতে পারে। এরি মাঝে শুরু হয়ে গেল পাকিস্তান কায়েমের আন্দোলন। হিন্দুদের অত্যাচার নির্যাতন থেকে মুক্তি পেতে মুসলমানরা নিজেদের আলাদা আবাস ভুমির দাবি করে বসল এবং পাকিস্তান কায়েমের আন্দোলন একটা পজিশান তৈরি করতে সক্ষম হলো। মুসলমানরা এক যোগে এই আন্দোলনে একাতœতা প্রকাশ করতে লাগল। মাওলানা মওদূদী যদিও জানতেন যে, যারা ইসলামের নামে পাকিস্তান কায়েমের আন্দোলন করছে তারা কখনোই পাকিস্তানে ইসলাম কায়েম করবে না তবুও তিনি এই নৈতিক ভাবে আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। আন্দোলনে যোগ দেয়ার আরো একটি কারন হিসেবে মাওলানা নিজেই বলছেন যে, কোন এক জায়গা থেকে ট্রেনে আসার পথে তিনি দেখলেন যে, হিন্দু জমিদার দের কে মুসলমানরা মাথা নিচু করে প্রনাম করে যা একেবারে সিজদার মতো। তিনি তখনই সিদ্ধান্ত নিলেন যে, যে করেই হোক মুসলমানদের জন্য আলাদা আবাস ভুমি অবশ্যই থাকতে হবে এবং জিন্নাহর মুসলীম লীগের কার্যক্রমে তিনি সরাসারি যুক্ত না হলেও কথা আর লেখার মাধ্যমে তার সমর্থন করে যেতে লাগলেন। পাকিস্তান কায়েমের আন্দোলনে মুসলমানদের কে বিভ্রান্ত করতে হিন্দু কংগ্রেস নেতারা ব্যবহার করলেন মুসলমানদের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ দেওবন্দ মাদ্রাসা মোহতামিম কে। একদিন দিল্লীর জামে মসজিদে নামাজ পড়াতে গিয়ে দেওবন্দের মোহতামিম, জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা আহমেদ হুসাইন মাদানী জুমার খুতবায় অত্যান্ত স্পষ্ট করে বললেন যে, মুসলমানদের আলাদা আবাস ভমির দাবি করা একটি মারাতœক ভুল এবং তিনি এও বললেন যে, হিন্দু মুসলমান এক জাতী হয়ে এই উপমহাদেশে বাস করতে পারে। এ বিষয়ে তিনি একটি বড় ভাষন প্রদান করেন। মাওলানার সেই ভাষন প্রথমে লিফলেট পড়ে বই আকাড়ে প্রকাশ করা হয়। মাদানীর এই বক্তব্য লিফলেট আকারে হিন্দুরাও প্রচার করতে লাগল। মহাতœা গান্দির কংগ্রেসের এই চালে জিন্নাহর মুসলীম লীগ কোনাঠাসা হয়ে পড়ল। যেহেতু আহমেদ হুসাইন মাদানী উপমহাদেশের একজন বিখ্যাত আলেম তাই তার কথায় মুসলমানরা পেরেশান হয়ে পরল কিন্তু কেউ এর প্রতিবাদ করার সাহস করলনা। কারন দেওবন্দের মোহতামিমের বিরুদ্ধে কথা বলার স্পষ্ট অর্থ হচ্ছে নিজেকে ফতোয়ার বানে জর্জরিত করা। ইতিহাসের পাতায় এ ঘটনাকে ওয়ান নেশন এন্ড টু নেশন থিউরি নামে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। যারা ইতিহাসের প্রতি আগ্রহ রাখেন তারা এ বিষয়ে ভালো করেই জানেন। মাওলানা মওদূদীকে জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দের পক্ষ থেকে বলা হলো, আল- জমিয়াত পত্রিকা মারফত এই হিন্দু মুসলমান এক জাতী তত্ত্বের ওপর লেখা লেখীর মাধ্যমে প্রচারনা চালানোর জন্য। মাওলানা মুওদূদী সাফ জবাব দিয়ে দিলেন যে, আল্লাহ তাকে যদি সামান্য পরিমান মেধা শক্তি দিয়ে থাকেন তাহলে তা কেবলমাত্র মুসলমানদের উপকারের জন্য দিয়েছেন এবং জীবন বাকি থাকতে তিনি মুসলমানদের স্বার্থ্যরে বিরুদ্ধে এক কলম লিখার জন্য প্রস্তুত নন। জমিয়তের এই ঘোষনা শুনার পর তাদের পত্রিকায় আর এক মুহুর্ত্য কাজ করা সমীচিন মনে করেননি। তিনি আল জমিয়তের কাজ ছেড়ে দিয়ে তরজমানুল কোরআন পত্রিকার দায়িত্ব্য নেন এবং শর্ত দিয়ে দেন যে, ইসলাম প্রচারে তাকে কোন প্রকার বাধা দেয়া যাবেনা। পরবর্তিতে এই একটি পত্রিকা ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে ইসলাম আর মুসলমানদের মুখপাত্র হিসেবে স্বিকৃতি পেয়ে যায়। মাওলানা আহমেদ হোসাইন মাদানির বক্তব্য যখন পাকিস্তান কায়েমের আন্দোলনে বিরাট বাধা হয়ে দাড়াল, এ পর্যায়ে মাওলানা মওদূদীও তার স্বভাব সুলভ কারনে চুপ থাকতে পারলেন না। এ বিষয়ে আল্লাহর সুন্নাত হচ্ছে যখন দায়িত্ব্যশীলরা কোন কাজ আঞ্জাম দিতে ব্যর্থ হন, তখন আল্লাহ সেই জনপদে অন্যকোন ব্যক্তি বা জাতীকে উত্থীত করেন যে, মানুষকে ভয় না পেয়ে আল্লাহর ইচ্ছা পুরন করবেন এবং নিজ দায়িত্ব্য পালন করবেন। এটাই হচ্ছে আল্লহর ফিতরাত। ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে আমরা সেই সত্যের মঞ্চায়ন হতে দেখেছি। যে কাজ করার কথা ছিল বড় বড় বুঝুর্গ দাবি ওয়ালাদের অথচ তারা সবাই মহাতœা গান্ধির নৌকায় চড়ে হাওয়া খাচ্ছিলেন আর সে কাজ আঞ্জাম দেয়ার জন্য আল্লাহ পছন্দ করে নিলেন আরেক জনকে। যাহোক, যে চিন্তা সেই কাজ, মাওলানা হুসাইন আহমেদ মাদানীর লিফলেটের জবাবে মাওলানা মওদূদী লিখে ফেললেন তার অমর এক গ্রন্থ মাসালায়ে কওমীয়াত বা জাতীয়তা বাদ সমষ্যা। এই বইতে মাওলানা মওদুদী নাম ধরে হোসাইন আহমেদ মাদানীর যুক্তির সমালোচনা করে কোরআন হাদিসের অসংখ্য দলিল দিয়ে প্রমান করে দেন যে, হিন্দু মুসলমান এক জাতী নয়, বরং তারা দুটি পরস্পর বিরোধী আলাদ দুটি জাতী। তাদের সভ্যতা এবং সংস্কৃতি সম্পর্ন আলাদা। তাদরে মাঝে মুসলমানরা কেবল সংখ্যা লগু হয়ে নির্যাতন সইতে হবে নতুবা নিজেদের আমলের পরিবর্তন করতে হবে। হিন্দু জমিদার দের হাত থেকে রেহাই পেতে মুসলমানদের জন্য নিজস্ব সংস্কৃতি গড়ে তোল ছাড়া কোন উপায় নাই। তাছারা তিনিও এও প্রমান করলেন যে, হিন্দু মুসলমানকে এক জাতী বলা একটি সুস্পষ্ট কুফরি কেননা ভাষার ভিত্তিতে জাতীয়তা হয়না। আমরা মাওলানা হোসাইন আহমেদ মাদানীর কিছু বক্তব্য তার বই থেকে কোড করছি। এক জাতিতত্বের পক্ষে তিনি কিভাবে আদা জল খেয়ে নেমেছিলেন তার কিছু নমুনা পাঠকরা উপলদ্ধি করতে পারবেন। মাদানী রহ লিখেণ-“ মাওলানা মাদানী লিখেন- এক জাতিতত্বের বিরুদ্ধে এবং এটাকে ন্যায় নীতির বিপরিত প্রমান করার জন্য যা কিছু লেখা হয়েছে এবং হচ্ছে তার ভূল ত্রুটি দেখিয়ে দেওয়া জরুরী মনে করছি।......। আরেকটু এগিয়ে গিয়ে তিনি বলেন- একজাতীয়তা যদি এতই অভিসপ্ত এবং নিকৃষ্ট হয়, তবুও ইউরোপীয়রা যেমন এই অস্ত্র ব্যবহার করে মুসলমানদের বাদশাহী ও ওসমানীয়া খেলাফতের মুলচ্ছেদ করেছে, তাই এই হাতিয়ারকেই বৃটিশদের মুলচ্ছেদের কাজে ব্যবহার করা মুসলমানদের কর্তব্য। মাওলানা মওদূদী মাদানীর এই বক্তব্যের জবাবে যে, বিপ্লবী গ্রন্থ লেখেন, তার প্রারম্ভে তিনি লেখেন- দারুল উলুম দেওবন্দের প্রিন্সিপাল জনাব মাওলানা হুসাইন আহমেদ মাদানীর “একজাতিতত্ত্ব ও ইসলাম” নামে একটি পুস্তক রচনা করেছেন। একজন সুপ্রসিদ্ধ আলেম এবং পাক-ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্টানের প্রধানের লিখিত এই বইটি জটিল জাতি সত্ত্বার সরল বিশ্লেষন এবং প্রকৃত ইসলামী দৃষ্টি ভংগির পূর্ন অভিব্যাক্তি হবে বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু এই বইটি পাঠ করে আমাদের কে নির্মমভাবে হতাশ হতে হয়েছে এবং বইটি লেখকের পদমর্যাদার পক্ষে হানিকর বলে মনে হচ্ছে। বর্তমান যুগে অসংখ্য ইসলাম বিরোধী মতবাদ ইসলামের মুলতত্ত্বের ওপর প্রবল আক্রমন চালাতে উদ্যত, ইসলাম আজ তার নিজের ঘরেই অসহায়। স্বয়ং মুসলমানগন দুনিয়ার ঘটনাবলী এবং সমষ্যাবলী খালেস ইসলামী দৃষ্ঠিতে যাচাই করে না। বলাবাহুল্য নিছক অজ্ঞতার কারনে তারা এমনটি করছে। উপরুন্ত জাতীয়তার বিষয়টি এতই জটিল যে, তাকে সুস্পষ্ট রুপে হৃদয়ঙ্গম করার উপরেই একটি জাতির জীবন মরন নির্ভর করে। কোন জাতি যদি নিজ জতীয়তার ভিত্তিসমূহের সাথে স¤পূর্ণ ভিন্ন মুলনীতির সংমিশ্রণ করে, তবে সে জাতি হিসাবে দুনিয়ার বুকে বাচঁতে পারবে না। এই জটিল বিষয়ে লেখনী ধারন করতে গিয়ে মাওলানা হোসাইন আহমেদ মাদানীর মতো ব্যক্তিত্ত্বের নিজের দায়িত্ব্য সম্পর্কে পূর্ণ সচেতন থাকা বাঞ্চনীয় ছিল। কারণ তার কাছে নবীর আমানত গচ্ছিত আছে।” এই বইয়ে আরেক জায়গায় মাওলানা মওদূদী লিখেন- আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, ওলামায়ে হিন্দের কাছে কাউন্সিল ও এসেম্বলীতে যোগ দেয়া একদিন হারাম এবং অন্যদিন হালাল বলে ঘোষনা করা একেবারে পুতূল খেলার শামিল হয়ে গেছে। গান্ধীজির একটি শব্দই তাদের ফতোয়াদানের ক্ষমতা সক্রিয় হয়ে উঠে। কিন্তু আমি ইসলামের শাশ্বত ও অপরিবর্তনীয় নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে বলছি- আল্লাহ ও রাসুল ফয়সালা করেছেন এমন কোন বিষয়ে নতুন করে ফয়সালা করার নিরংকুশ অধিকার মানুষকে দেয় যেসব সামগ্রিক প্রতিষ্টান- মুসলমানদের পক্ষে তা সমর্থন করা এক চিরন্তন অপরাধ সন্দেহ নাই।.......। মাওলানা মওদুদী জাতিয়তার ভিত্তি বর্ননা করে বলেন-“ যেসব গন্ডীবদ্ধ, জড় ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও কুসংস্কারপূর্ণ ভিত্তির ওপর দুনিয়ার জাতীয়তার প্রসাদ গড়ে উঠেছে আল্লাহ ও তার রাসুল (স) তা চূর্ন বিচূর্ণ করে দেন।” জাতীয়তা ভাষা বা দেশের ভিত্তিতে হয়না, হয় আদর্শের ভিত্তিতে। আমরা মুসলীম জাতি। ইসলাম আদর্শ। প্রথিবীর যেকোন প্রান্তের একজন মুসলমান আমার ভাই। যদি আমার ঘরের আপন ভাইও ইসলামী আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়, তাহলে সেও আমার ভাই নয়। সে আমার জাতির অন্তর্ভূক্ত নয়। যারা এ বিষয়ে বিস্তারিত পড়তে চান তারা জাতীয়তা সমষ্যা নামক বইটি পড়ে দেখতে পারেন। আলোচনার সুবিধার্থে আমরা কয়েক লাইন কোড করলাম যাতে পাঠকরা নিরেপক্ষ মন নিয়ে বিচার করতে পারেন শুরু থেকেই কারা হক্বের পক্ষ নিয়েছিল। মাওলানা মওদূদীর প্রতি মাওলানা মাদানীর আক্রোশের এটাই কারণ।। আক্রোশকে ভিত্তি করেই মাওলানা মাদানী পরবর্তিকালে মাওলানা মওদূদীর ওপর আমরন ফতোয়াবাজীর মেশিন গান থেকে অমুলক, ভিত্তিহীন ও বিদ্ধেষমুলক অভিযোগ টেনে রোষানল প্রজ্জলিত ফতোয়ার গোলা বর্ষন করেছেণ। এর চেয়েও অধিক পরিতাপের বিষয় হলো মাওলানা মাদানীর অনেক শিষ্য; সাগরেদ, যারা ‘ওলামায়ে দ্বীন’ বলে পরিচিত, ওস্তাদের অনুকরনে তারাও মাওলানা মওদূদীর অন্ধ বিরোধীতায় মেতে উঠেন। এ কারনে আমরা যদি লক্ষ করি তাহলে দেখবো যে, কেবল মাত্র কংগ্রেস সমর্থক বা মহাতœা গান্ধীর অনুশারী মাওলানা হোসাইন আহমেদ মাদানীর শিষ্য, সাগরেদ বা তার খলীফারা ছাড়া অন্য কেউই মাওলানা মওদূদীর বিরুদ্ধে ফতোয়া দেয়ার প্রয়োজন মনে করেননি। যতগুলো বই মাওলানা মওদূদীর বিরুদ্ধে এ যাবত লেখা হয়েছে, তার সবগুলোই এই হোসাইন আহমেদ মাদানীর খলীফা বা কোন কোন পর্যায়ের ভক্ত অনুশারীর দ্বারা লিখিত। কওমী আলেমদের মাঝে মুরব্বিদের আনুগত্যের একটি সংজ্ঞা চালু আছে। সংজ্ঞাটি হলো মুরব্বির ভুল ধরাও ভূল। অথচ মওদূদীর মতো একজন সাধারন আলেম এত বড় মুরব্বির সমালোচনা করলেন এবং তার কথাকে স্পষ্ট ভাষায় অনৈসলামীক এবং ভ্রান্ত বলে রায় দিলেন, এতো বড় অপরাধ কি সহজে ক্ষমা পাওয়ার মতো। এসব কারনে দেওবন্দের একাংশের কাছে মাওলানা মওদূদীর লেখা বিষতুল্য মনে হলো। মাদানী সাহেব বললেন- ইয়্যে লেড়কা বেয়াদব হ্যাঁয়। শুধু কি তাই। তারা ঘোষনা করলো মওদূদীর বই পড়লে সাধারন ছাত্রও মুরব্বিদের সাথে বেয়াদবী করা শিখবে।” এভাবেই মাওলানা মওদূদীর লিখিত বই জাতীয়তা সমষ্যা বা মাসালায়ে কওমীয়াত লেখার কারনেই মওদূদীকে হোসাইন আহমেদ মাদানীর ফতোয়ার বানে জর্জরিত হতে হয়েছে। কি সব অবাস্তব মিথ্যাচার তারা করেছেণ তার নমুনা একটু পরেই আমরা দেখাতে পারবো। এই বইটি যখন তরজমানুল কোরআনে প্রকাশ হতে লাগল, মুসলিম লীগের সমর্থক সহ সকল মুসলামনরা যেন চাঁদ হাতে পেল। তারাও হিন্দুদের প্রচারিত মাওলানা হুসাইন আহমেদ মাদানীর বক্তৃতার লিফলেটের জবাবে মাওলানা মুওদূদীল লিখিত তরজামানুলের কপি বিলি করতে লাগলেন। এদিকে আল্লামা ইকবাল শুরু থেকেই মাওলানার চরম ভক্তদের মধ্যে একজন ছিলেন। তিনিও সব পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছিলেন। মাওলানা হোসাইন আহমেদ মাদানী যখন এক জাতী তত্ত্ব ঘোষনা করে বক্তৃতা করলে, তখন সাথে সাথে আল্লামা ইকবাল তার সমালোচনা করে একটি কবিতা লিখে ফেললেন। কবিতাটির অনুবাদ দেয়া হলো। “ আজমিয়া আল্লাহর দ্বীনের হাকিকত বুঝিতে পারেনি, তাই যদি না হতো তাহলে দেওবন্দের মাওলানা হুসাইন আহমেদ মাদানী মিম্বরে দাড়িয়ে এমন ধরনের কথা কিছুতেই বলতে পারতেন না যে, দেশের ভিত্তিতে জাতী হয় ( কলেমার ভিত্তিতে নয়) আফসোস, এরা আরবি মোহাম্মদের (স) মতাদর্শ আদৌ বুঝতে পারেনি।” আল্লামা ইকবাল এই ধরনের একজন প্রসিদ্ধ আলেমের এক জাতী তত্ত্বের পক্ষে ওকালতি দেখে এতই মর্মাহত হয়েছিলেন যে, তিনি তার কবিতার মাধ্যমে মনের ব্যথা প্রকাশ করেছিলেন। ইতিপুর্বে যে মওদূদীর জ্ঞান গরিমার কারনে তারা তাকে তাদের নিজস্ব পত্রিকার সম্পাদনার ভার দিয়েছিলেন এবং যার প্রশংসায় তারা ছিলেন পঞ্চমুখ, তারাই এবার তার বিরুদ্ধে আদা জল খেয়ে মাঠে নামলেন। মাওলানার সকল লেখাকে আতশি কাঁচ দিয়ে পরীক্ষা করতে লাগলেন। যদি কোন সামান্য বানানে ভূল ধরা পরে সাথে সাথে তা পত্রিকা মারফত জানানো হতে লাগল। এভাবেই শুরু হয়ে গেল মাওলানা মওদূদীর সাথে আহমেদ হোসাইন মাদানীর প্রকাশ্য শত্রুতা। এবং এই শত্রুতার জের ধরে তিনি বলেছিলেন যে, ইয়ে লেরকা বেয়াদব হ্যায়- এই ছেলেটি বেয়াদব। কওমী ঘরনার কোন ব্যক্তি একথা কল্পনাও করতে পারেন না যে, তিনি তার উস্তাদের ভুল ধরিয়ে দিবেন। বরং চোখ বন্দ করে মেনে নেয়াটাই ভদ্রতার আর শিষ্টাাচার হিসেবে গন্য হয়। আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানী এই যে, এই ঘটনার পর দেওবন্দের আরেক বিখ্যাত বুজুর্গ মাওলানা সাব্বির আহমেদ ওসমানী কংগ্রেস আলেমদের ভুল ত্রুটি সঠিক সময়ে উপলদ্ধি করে অসংখ্য আলেমদের সাথে নিয়ে কংগ্রেস আলেমদের সঙ্গ ত্যাগ করে তার দল বল নিয়ে মুসলিম লীগে যোগদান করেন। পরবর্তিতে তার ভ্রাতুস্পুত্র ও জামাতা মাওলানা আমের ওসমানী দেওবন্দ হতে প্রকাশিত তাজাল্লী পত্রিকার মারফত মুওদূদীর বিরুদ্ধে আনিত মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে জবাব দিতে থাকেন। তর নেতৃত্বে দেওবন্দ জামায়াত অত্যান্ত শক্তী শালী অবস্থানে ছিল। বর্তমানে তিনি জিবিত নাই দেওবন্দ জামায়াতের অবস্থান অনেক ভালো। ইর্ষাপরায়ন কিছু আলেম ব্যক্তিগত সার্থ্যে মাওলানা মুওদূদীর বিরুদ্ধে যে সকল ভিত্তিহীন অভিযোগ দায়ের করেছেন তার অধিকাংশের জবাব বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জন দিয়েছেন এবং এই বিষয়ে বিশাল কিতাবের ভান্ডার রয়েছে। ইচ্ছা করলে যে কেহ তা সংগ্রহ করে পরে দেখতে পারেন। কিন্তু যারা মুরব্বি পুজায় লিপ্ত, মুরব্বিদের কথাকে কোরআনের চাইতেও বেশি মুল্যায়ন করেন, তারা মওদূদীর পক্ষে লিখিত এ সকল বই পড়ে কোন ফায়দা পাবেন না। এবং এটা বই পড়ার বিজ্ঞান সম্মত কোন পদ্ধতি নয়। যারা খোলা মন নিয়ে শুধু মাত্র সত্যকে জানার জন্য অধ্যায়ন করেছেন তারাই কেবল মাত্র কোরআন থেকে হেদায়েত পেয়েছেন। কেননা কোন ব্যক্তির জন্য এটা হেদায়েতের কিতাব নয় যে ব্যাক্তির মনে আল্লাহর কোন ভয় নাই। অতএব যারা আল্লাহকে ভয় করে পথ চলেন তারা যেন পরিচ্ছন্ন মন নিয়ে কোরআন অধ্যায়ন করে তারাই কেবল মাত্র কোরআন থেকে হেদায়েত পেতে পারে।"
০৭ অক্টোবর ২০১৩ দুপুর ০১:০৬
89801
আহমদ মুসা লিখেছেন : অসাধারণ!!!
০৭ অক্টোবর ২০১৩ দুপুর ০২:১৫
89814
মু নূরনবী লিখেছেন : অনেক কিছু জানলাম..জাজাকাল্লাহ
০৭ অক্টোবর ২০১৩ দুপুর ০৩:৫৭
89826
মোঃ ওহিদুল ইসলাম লিখেছেন : Thumbs Up Thumbs Up Thumbs Up
১৩
131831
০৭ অক্টোবর ২০১৩ দুপুর ০৩:৫৬
মোঃ ওহিদুল ইসলাম লিখেছেন : অত্র পোস্ট এ জনাব মওদুদী (রহঃ) এর বেশিরভাগ বক্তব্য অসত উদ্দেশ্যে বিকৃতভাবে এবং খন্ডিতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। উনি যা বুঝাতে চেয়েছেন সেটা খন্ডিত বক্তব্য দিয়ে তার অর্থ পরিবর্তন করা হয়েছে।
১৪
131832
০৭ অক্টোবর ২০১৩ দুপুর ০৩:৫৯
মোঃ ওহিদুল ইসলাম লিখেছেন : মওদুদীর (রহঃ)এক ছেলে ব্যতীত (ফারুক হায়দার, যে বামপন্থী নাস্তিকদের আমন্ত্রণে বাংলাদেশ এ এসে বুলি আওড়াচ্ছে) সকলেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইসলামী রাজনীতির সাথে জড়িত। এটা হতেই পারে। হযরত নূহ (আঃ) এর ছেলে কাফের ছিল। হযরত মূসা (আঃ) ফেরাউন এর রাজদরকারে লালিত হয়েছিলেন। আলেম এর ঘরেও আল্লাহ পাক অনেক সময় জালিম পয়দা করেন। আর সেই ফারুক হায়দার নাস্তিকদের প্রতিনিধিত্ব করে, সেটা নাস্তিক রাম বামদের সাথে তাঁর উঠাবসা দেখলেই বুঝা যায়।
১৫
131834
০৭ অক্টোবর ২০১৩ বিকাল ০৪:১৬
প্রেসিডেন্ট লিখেছেন : আল্লামা মওদুদী (রহঃ) এর মত একজন এর বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপনের হেতু কি? এটা কি শুধুই ব্যক্তি বিদ্বেষ নাকি ইসলাম বিদ্বেষ?

বর্তমানে ডাঃ জাকির নায়েক এর বক্তব্যকেও আমার বিভিন্ন সময় বিকৃতভাবে উপস্থাপিত হতে দেখি যাতে মূল বক্তব্যের অর্থ বদলে যায়। এবং এসব যারা করছে তাঁরা ইসলামের লেবাসেই করছে। প্রকৃতপক্ষে এরা চরম ফিতনাবাজ। আল্লাহ মুসলমানদের হেফাজত করুন। আমিন।
১৬
131920
০৭ অক্টোবর ২০১৩ রাত ১১:২৩
ওমার আল ফারুক লিখেছেন : আপনি যে পোস্টটি করেছেন এটি অনেক পূর্বের কিছু|এইগুলো এভাবে বলাযায়,প্রথমেই এর লেখক মিথ্যাচার করেছেন|তাছাড়া এর লেখক ও এই বিষয়গুলো পড়েছে কিনা সন্দেহ রয়েছে|তাদের মুরব্বিরা যেটি বলে সেটিই ওনারা মেনে চলেন|যেমন আপনার অবস্থাও তেমন|কখনো কী একবারো যাচাই করে দেখেছেন কিংবা তার কোন বই পড়েছেন?

মন্তব্য করতে লগইন করুন




Upload Image

Upload File